
ভাইবোনদের একসাথে খেলাধুলার উপকারিতা
বিশেষজ্ঞরা বলেন, হেলদি ভাই-বোন সম্পর্ক তখনই তৈরি হয় যখন সেখানে আনন্দ, ইন্টার্যাকশন আর ভলান্টারি বন্ডিং থাকে, শুধুমাত্র দায়িত্ব না। আরেকটা বড় বিষয় হলো...
বিনোদনে সৃজনশীলতার বিকাশ
6 টি পোস্ট

বিশেষজ্ঞরা বলেন, হেলদি ভাই-বোন সম্পর্ক তখনই তৈরি হয় যখন সেখানে আনন্দ, ইন্টার্যাকশন আর ভলান্টারি বন্ডিং থাকে, শুধুমাত্র দায়িত্ব না। আরেকটা বড় বিষয় হলো...

শাহ আলম রাতে কাজ শেষে বাসায় ফিরলে তার তিন বছরের ছেলে রাফি প্রায়ই বলে, “আব্বু, গল্প বলো।” প্রথমদিকে শাহ আলম অস্বস্তিতে পড়ে যেত। সে তো খুব বেশি পড়াশোনা জানে না, বইয়ের গল্পও মুখস্থ নেই। তাই মাঝে মাঝে এড়িয়ে যেত। কিন্তু এক রাতে বিদ্যুৎ চলে গিয়েছিল। অন্ধকার ঘরে বসে সে হঠাৎ বানিয়ে বানিয়ে একটা গল্প বলা শুরু করে, একটা ছোট্ট বিড়াল আর হারিয়ে যাওয়া লাল জুতার গল্প। গল্প শেষ হওয়ার পর রাফির চোখদুটো চকচক করছিল। পরদিনও সে একই গল্প আবার শুনতে চাইল। সেদিন শাহ আলম বুঝতে পারে, শিশুর কাছে গল্প শুধু বিনোদন না, এটা তার চিন্তা করার জগৎ খুলে দেয়।

আমি একজন চাকরিজীবী বাবা। সপ্তাহের ছয় দিনই প্রায় অফিস, ট্রাফিক আর দায়িত্বের মধ্যে চলে যায়। সকালে বের হওয়ার সময় বাচ্চারা আধা ঘুমে থাকে, আর রাতে ফিরতে ফিরতে অনেক সময় তারা ঘুমানোর প্রস্তুতি নেয়। ফলে পুরো সপ্তাহে সন্তানদের সাথে কোয়ালিটি টাইম খুব সীমিত হয়ে যায়। তাই এখন উইকএন্ড আমার কাছে শুধু বিশ্রামের দিন না, এটা সন্তানদের সাথে রিকানেক্ট করারও সময়। আগে উইকএন্ড মানেই ছিল ঘুম, বাজার আর বাসার কাজ শেষ করা। কিন্তু ধীরে ধীরে বুঝলাম, শিশুদের জন্য বাবা-মায়ের উপস্থিতি খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বাবার সাথে অ্যাকটিভ ইন্টারঅ্যাকশন শিশুদের অনুভূতির বিকাশ, আত্মবিশ্বাস এবং সামাজিক দক্ষতা এর উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

ব্যবসার কাজের কারণে আমার দিনের বড় একটা সময় বাইরে কাটে। তাই যমজ ছেলেরা জন্মানোর পর প্রথম কয়েক মাস আমার ভেতরে একটা অদ্ভূত ভয় কাজ করত— “ওরা কি আমাকে যথেষ্ট চিনবে?”, “মায়ের সাথে যেমন কম্ফোর্ট ফিল করে, আমার সাথেও কি করবে?” শুরুতে আমি ভাবতাম, শিশুর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলা মানে অনেক বড় কিছু। পরে বুঝলাম, ছোট ছোট মুহূর্তই আসলে সবচেয়ে দৃঢ় সম্পর্ক তৈরি করে। আর শিশুর সঙ্গে সেই সম্পর্ক গড়ে তোলার সবচেয়ে স্বাভাবিক উপায়গুলোর একটি হলো “খেলা”।

দামী খেলনার চেয়ে Meaningful play কেন বেশি জরুরি? আমি আর আমার স্বামী দুজনই পেশাজীবী। তাই মেয়ের জন্য কিছু কিনতে গেলে সবসময় চেষ্টা করি ভালো জিনিসটাই কিনতে। একসময় মনে হতো, বেশি দামি খেলনা মানেই হয়তো বেশি শেখা, বেশি উন্নতি। বাসার এক কোণে ব্যাটারি চালিত খেলনা, কথা বলা পুতুল, গান বাজানো খেলনাসহ অনেক খেলনা জমে গিয়েছিল। কিন্তু একটা সময় আমি বুঝতে পারলাম, ব্যাটারি চালিত খেলনার চেয়ে ইন্টারেক্টিভ খেলনা শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ব্যাটারি চালিত খেলনায় শিশুরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারে না; তারা শুধু দেখে যায়।

আমি কিছু সিম্পল ফ্যামিলি গেম এর আইডিয়া জমাচ্ছি, যেগুলো ঘরে বসেই করা যায়। যেমন আমি বললাম, “লাল রঙের কিছু খুঁজে আনো।” এতে শিশুরা একসাথে দৌড়াদৌড়ি করে, হাসাহাসি করে। আবার একই সাথে রঙ চেনাও শেখে। আরেকটা মজার খেলা হলো “বালিশ বা সোফার গদির ঘর” বানানো। চাদর, বালিশ, গদি দিয়ে ছোট্ট ঘর বানিয়ে সেখানে বসে গল্প বলা। এতে শিশুদের ইমেজিনেশন মজবুত হয়, আবার ভাইবোন একসাথে টিমওয়ার্ক-ও শেখে। আমাদের দেশে আগে.....