লোগো

শিশুকে নিজের দেশের সংস্কৃতি জানাতে উৎসাহিত করা

শিশুকে নিজের দেশের সংস্কৃতি জানাতে উৎসাহিত করা

সচেতন অভিভাবক হিসেবে আমাদের একটি গুরু দায়িত্ব হচ্ছে আমাদের শিশুকে নিজের দেশের সংস্কৃতি জানাতে উৎসাহিত করা, কেননা এটি একটি শিশুর পরিচয়, মূল্যবোধ এবং মানসিক গঠনের সাথে গভীরভাবে জড়িত। একটি শিশু যখন ছোটবেলা থেকেই নিজের দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে শুরু করে, তখন সে নিজের শিকড় সম্পর্কে সচেতন হয় এবং নিজের পরিচয় নিয়ে গর্ববোধ করতে শেখে। নিজের দেশের সংস্কৃতি জানার মাধ্যমে একটি শিশু বুঝতে পারে তার ভাষা, ঐতিহ্য, ইতিহাস এবং সমাজের গুরুত্ব কী। এই কারণেই শিশুকে নিজের দেশের সংস্কৃতি শেখানো শুধু একটি অতিরিক্ত বিষয় নয়, বরং তার সঠিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত জরুরি। নিজের দেশের সংস্কৃতি একটি শিশুর আত্মপরিচয় গঠনে সহায়তা করে এবং তাকে আত্মবিশ্বাসীও করে তোলে।

পরিবারই হলো সেই জায়গা, যেখানে একটি শিশু প্রথম নিজের দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারে। প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসের মধ্য দিয়েই শিশুকে নিজের দেশের সংস্কৃতি শেখানো সম্ভব। যেমন, পরিবারের সদস্যদের সাথে বাংলা ভাষায় কথা বলা, দেশীয় খাবার রান্না করা, ছোটবেলায় শোনা গল্পগুলো শিশুকে শোনানো এসবের মাধ্যমে শিশুর মধ্যে নিজের দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে স্বাভাবিক আগ্রহ তৈরি হয়। যখন একটি শিশু নিয়মিতভাবে নিজের দেশের সংস্কৃতি দেখে এবং অনুভব করে, তখন সেটি তার জীবনের একটি স্বাভাবিক অংশ হয়ে যায়। এইভাবে নিজের দেশের সংস্কৃতি তার আচরণ, চিন্তা এবং অভ্যাসে ধীরে ধীরে জায়গা করে নেয়।

শিশুকে নিজের দেশের সংস্কৃতি জানাতে উৎসাহিত করার আরেকটি কার্যকর উপায় হলো বিভিন্ন উৎসব ও ঐতিহ্য উদযাপন করা। যেমন পহেলা বৈশাখ, ঈদ বা অন্যান্য জাতীয় দিবসগুলো পরিবারসহ উদযাপন করলে শিশু আনন্দের মধ্য দিয়ে নিজের দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারে। নিজের দেশের সংস্কৃতি জানার মাধ্যমে একটি শিশু শুধু আনন্দ পায়  তা না, বরং সে তার সমাজের সাথে সংযুক্ত হতে শেখে এবং অন্যদের প্রতি সম্মানবোধ গড়ে তোলে।

বর্তমান সময়ে প্রযুক্তি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে শিশুরা খুব সহজেই বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাবের মধ্যে চলে যাচ্ছে। যদি এই সময় আমরা শিশুকে নিজের দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে সচেতন না করি, তাহলে সে ধীরে ধীরে নিজের পরিচয় থেকে দূরে সরে যেতে পারে। এই কারণেই শিশুকে নিজের দেশের সংস্কৃতি শেখানো এখন আরও বেশি জরুরি হয়ে উঠেছে।

শুধু কথার মাধ্যমে নয়, বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েও শিশুকে নিজের দেশের সংস্কৃতি শেখানো উচিত। যেমন গ্রামে নিয়ে যাওয়া, স্থানীয় মেলা দেখানো, লোকজ অনুষ্ঠান অংশগ্রহণ করানো এসবের মাধ্যমে নিজের দেশের সংস্কৃতি শিশুর কাছে আরও জীবন্ত হয়ে ওঠে। এতে করে সে নিজের দেশের সংস্কৃতি শুধু শেখে না, বরং সেটি অনুভব করতে শেখে। এই ধরনের অভিজ্ঞতা একটি শিশুর মনে দীর্ঘদিন ধরে থাকে এবং তার চিন্তাভাবনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

শিশুকে নিজের দেশের সংস্কৃতি শেখানোর সময় জোর না করে ভালোবাসা এবং আগ্রহের মাধ্যমে তাকে উৎসাহিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটি শিশু যখন আনন্দের সাথে নিজের দেশের সংস্কৃতি শেখে, তখন সেটি তার জীবনের অংশ হয়ে যায়। অভিভাবকরা যদি নিজেরাই নিজের দেশের সংস্কৃতি মেনে চলেন এবং সেটিকে গুরুত্ব দেন, তাহলে শিশুও স্বাভাবিকভাবে সেটি অনুসরণ করতে শিখবে।

বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি নিয়ে আমাদের শিশুদের আরও সচেতন করে তোলার উদ্দেশ্যে  আদর্শ লিপি চ্যানেলে ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন

 

একটি শিশু যদি ছোটবেলা থেকেই নিজের দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে সচেতন হয়, তাহলে সে বড় হয়ে একজন দায়িত্বশীল, আত্মবিশ্বাসী এবং সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। তাই আমাদের উচিত এখন থেকেই সময় নিয়ে, ধৈর্য ধরে এবং ভালোবাসার মাধ্যমে শিশুকে নিজের দেশের সংস্কৃতি শেখানো, যাতে সে তার শিকড়কে চিনতে পারে এবং গর্বের সাথে নিজের পরিচয় তুলে ধরতে পারে।
 

এই পোস্টটি শেয়ার করুন:

FacebookTwitterWhatsAppTelegramLinkedIn

💬 মন্তব্য (0)

মন্তব্য লোড হচ্ছে...

মন্তব্য লিখুন

0/1000