লোগো

সৃজনশীলতা ও দক্ষতা উন্নয়ন (ছবি আঁকা)

সৃজনশীলতা ও দক্ষতা উন্নয়ন (ছবি আঁকা)

ছবি আঁকা হচ্ছে শিশুর মনের ভাষা প্রকাশের একটি বড় মাধ্যম। একটি শিশু যখন তার চারপাশের পরিবেশ দেখে তখন সে ঐ পরিবেশ থেকে যা উপলব্ধি করে তা সে ছবি আঁকার মাধ্যমে প্রকাশ করে। আমরা অভিভাবকরা অনেক সময় ভেবে থাকি ছবি আঁকা মানে কেবল কিছু আঁকিবুঁকি আর রং করা কিন্তু ছবি আঁকা হচ্ছে মূলত শিশুদের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ছবি আঁকা হচ্ছে শিশুর মনের ভাষা প্রকাশের একটি বড় মাধ্যম। একটি শিশু যখন তার চারপাশের পরিবেশ দেখে তখন সে ঐ পরিবেশ থেকে যা উপলব্ধি করে তা সে ছবি আঁকার মাধ্যমে প্রকাশ করে। আমরা অভিভাবকরা অনেক সময় ভেবে থাকি ছবি আঁকা মানে কেবল কিছু আঁকিবুঁকি আর রং করা কিন্তু ছবি আঁকা হচ্ছে মূলত শিশুদের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বিভিন্ন ধরণের ছবি আঁকা মূলত একটি শিশুর সৃজনশীল চিন্তাধারা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। একটি শিশু যখন সাদা ক্যানভাসে নিজের কল্পনার জগৎ তৈরি করে তখন তার মনের স্বাধীন চিন্তাধারার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। যার ফলে তার মধ্যে আত্মবিশ্বাস গড়ে ওঠে এবং এই আত্মবিশ্বাসই তাকে ভবিষ্যতে সমস্যা সমাধানের দক্ষতা গড়ে তুলতে  সাহায্য করে।

এছাড়াও অনেক গবেষণায় দেখা গেছে ছবি আঁকা শিশুর মোটর স্কিল উন্নত করে। একটি ছবি আঁকতে গিয়ে যখন বাচ্চা তার আঙ্গুল দিয়ে ছবি আঁকার পেন্সিল, ব্রাশ, ইত্যাদি ধরে তখন এটি তার হাতের সূক্ষ্ম পেশির ব্যবহার বাড়ায়। যা পরবর্তীতে সুন্দর হাতের লেখা, কারুকাজ বা অন্যান্য যেকোনো কাজের দক্ষতায় তাকে সাহায্য করে।

এছাড়াও ছবি আঁকা শিশুকে ধৈর্য ও মনোযোগ শেখায়। একটি বাচ্চা যখন তার কল্পনাকে একটি সাদা কাগজে প্রকাশ করতে যায় তখন তাকে ছবি আঁকতে হয়, রং করতে হয়, কিছু কিছু রঙের ক্ষেত্রে তাকে শুকানোর জন্য অপেক্ষা করতে হয় এবং এই ধাপগুলো তাকে ধৈর্য সহকারে মনোযোগ দিয়ে করতে হয়। তার এই ধৈর্য ও মনোযোগ ভবিষ্যতে তাকে বিভিন্ন ধরণের কাজে ইতিবাচকভাবে সাহায্য করবে।

তাছাড়া কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যখন একটি শিশু আর্টের মাধ্যমে নিজের অনুভূতি, চিন্তা বা কল্পনা প্রকাশ করতে পারে এবং তার কাজ প্রদর্শিত হওয়ার পর তাকে প্রশংসা করা হয় তখন তার মস্তিষ্কে রিওয়ার্ড রেসপন্স তৈরি হয়। এই অনুভূতিই  তার আত্মসম্মান  তৈরিতে ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও ছবি আঁকা একটি শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও দারুণ কাজ করে। অনেক শিশু তাদের ভয়, রাগ বা দুঃখ প্রকাশ করতে পারে না। কিন্তু ছবি আঁকার সময় তারা নিজের অনুভূতি কাগজে ফুটিয়ে তোলে। তাই ছবি আঁকা শিশুদের এক ধরনের আবেগ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যম হিসেবেও কাজ করে।

মা-বাবা বা অভিভাবক হিসেবে আমাদের করণীয় হচ্ছে শিশুদের এই প্রতিভাগুলো বিকশিত করার পরিবেশ তৈরি করে দেয়া। ছবি আঁকায় ভুল বলে কিছু নেই তাই শিশু যখন একটি ছবি আঁকে তখন  তার কাছ থেকে তার ছবির গল্প শুনতে চাওয়া উচিত। এতে সে নিজের ভাবনা ব্যাখ্যা করতে পারবে যা তার ভাষাগত দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করবে এবং সে নিজেকে প্রকাশ করতে উৎসাহী হবে। তাই শিশুকে উৎসাহ দিয়ে তার ছবি আঁকার পুরো প্রক্রিয়াকে উপভোগ করতে সাহায্য করা আমাদের দায়িত্ব। আমাদের প্রত্যেকের শিশুদের জন্য প্রতিদিন কিছু সময় হলেও তার নিজস্ব সৃজনশীলতা প্রকাশের সুযোগ করে দেয়া উচিত। এতে সে এমন একজন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠার সুযোগ পাবে যে স্বাধীনভাবে কল্পনা করতে পারবে এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেকে প্রকাশ করতে পারবে।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন:

FacebookTwitterWhatsAppTelegramLinkedIn

💬 মন্তব্য (0)

মন্তব্য লোড হচ্ছে...

মন্তব্য লিখুন

0/1000