লোগো

শিশু শিক্ষার জন্য কার্যকর রুটিন অনুসরণ করানো

শিশু শিক্ষার জন্য কার্যকর রুটিন অনুসরণ করানো

ফাহমিদা বেগমের বাসায় পড়াশোনার জন্য আলাদা কোনো শান্ত পরিবেশ নেই। এক রুমের ঘরে টিভির শব্দ, রান্নার আওয়াজ, ছোট ছেলের কান্না এসবকিছুর মাঝেই বড় দুই মেয়েকে পড়তে বসতে হয়। কখনো তারা রাতে পড়ে, কখনো সকালে, আবার কোনোদিন একদমই বসতে চায় না।

ফাহমিদা আগে ভাবতেন, “বাচ্চারা কেন নিয়মিত পড়তে চায় না?” পরে তিনি বুঝতে শুরু করেন, সমস্যাটা শুধু ইচ্ছার না, তাদের জীবনে কোনো নিয়মিত রুটিন -ই তৈরি হয়নি।
Child development research বলছে, শিশুদের নিয়মিত রুটিন ও নির্দিষ্ট ধারাবাহিকতার সাথে খুব ভালোভাবে কাজ করে। কারণ নির্দিষ্ট রুটিন শিশুর ব্রেইনে নিরাপত্তাবোধ ও অভ্যাস তৈরি করতে সাহায্য করে।
সহজ ভাষায় বললে, প্রতিদিন একই সময়ে একই ধরনের কাজ হলে শিশুর মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে সেই কাজের জন্য প্রস্তুত হতে শেখে।
ফাহমিদার বড় মেয়েটা আগে পড়তে বসার সময়েই বিরক্ত হতো। কারণ কখন পড়বে, কতক্ষণ পড়বে, কিছুই ফিক্সড ছিল না। কখনো মা রাগ করে হঠাৎ বসাতেন, কখনো একেবারেই খোঁজ নিতে পারতেন না।
পরে ফাহমিদা ছোট একটা পরিবর্তন আনেন। এখন প্রতিদিন রাতের খাবারের পরে অন্তত ৩০–৪০ মিনিট “পড়ার সময়” রাখা হয়। TV বন্ধ থাকে, আর সবাই জানে এই সময়টায় পড়াশোনা হবে।
গবেষণায় দেখা গেছে,্সনিয়মিত পড়াশোনার রুটিন শিশুদের মনোযোগ ও পড়াশোনার শৃঙ্খলা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
তবে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রুটিন মানেই military rule না।
অনেক পরিবারে এমন কঠোর শিডিউল বানানো হয় যে শিশু মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে যায়। যেমনঃ
●    সারাদিন শুধু পড়া
●    খেলাধুলা নেই
●    বিশ্রাম নেই
●    ভুল করলেই বকা
এতে শিশুর শেখার প্রতি আগ্রহ কমে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, একটি কার্যকর রুটিনে ভারসাম্য থাকা জরুরি। অর্থাৎ সেখানে,
●    পড়াশোনা
●    খেলা
●    বিশ্রাম
●    ঘুম
●    পরিবারের সাথে সময় কাটানো
সবকিছুরই জায়গা থাকতে হবে।
ফাহমিদা এখন খেয়াল রাখেন যেন মেয়েরা শুধু পড়তেই না বসে থাকে। বিকেলে কিছু সময় খেলারও সুযোগ পায়। কারণ রিসার্স বলছে, শারীরিক কার্যকলাপ (physical activity) এবং মুক্ত খেলা (free play) শিশুর স্মৃতি ও মনোযোগের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ছোট ছোট achievable goal (বাস্তবসম্মত লক্ষ্য)।
অনেক মা-বাবা একসাথে অনেক চাপ দেন। “আজকেই পুরো বই শেষ করো”, “সব সাবজেক্ট পড়ো”, এসব অনেক শিশুর কাছে অতিরিক্ত চাপের মনে হয়।
ফাহমিদা এখন বড় মেয়েকে বলেন, “আজ শুধু এই দুই পৃষ্ঠা বুঝে পড়।”
এই ছোট টার্গেট শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, ছোট অর্জন-এর positive feedback (ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া) শিশুর অনুপ্রেরণা বাড়ায়।
আরেকটা বড় সমস্যা নিম্নবিত্ত পরিবারে প্রায়ই দেখা যা, পড়ার সময় বারবার বাধাগ্রস্থ হওয়া।
কখনো বাজারে যেতে বলা হয়, কখনো ছোট ভাইকে সামলাতে হয়, কখনো বাসার কাজ। এতে শিশুর ফোকাস ভেঙে যায়।
ফাহমিদার বড় মেয়েটাও আগে পড়তে বসলে মাঝেমধ্যে ছোট ভাইকে দেখার দায়িত্ব পেত। এখন ফাহমিদা চেষ্টা করেন অন্তত পড়ার সময়টুকুতে তাকে একটু কম disturb করতে।
কারণ বাধাহীন শেখার পরিবেশ শিশুর একাগ্রতা ও মনোযোগ ধরে রাখার দক্ষতা তৈরি করে।
আরেকটা বিষয় হলো, সব শিশু একইভাবে শেখে না।
কেউ পড়ে শিখে, কেউ শুনে, কেউ লিখে বা দেখে ভালো শেখে। তাই শুধু “বই মুখস্থ” করানো সবসময় কার্যকর হয় না।
ফাহমিদা মাঝে মাঝে মেয়েদের দিয়ে জোরে জোরে পড়ে শুনান, কখনো spelling game খেলেন, কখনো বাজারের হিসাব দিয়ে math practice করান।
এই ধরনের বাস্তবসম্মত শিক্ষা অনেক শিশুর জন্য বেশ কার্যকর হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, পর্যাপ্ত ঘুম ছাড়াশকার্যকর শিক্ষা সম্ভব না।
অনেক শিশু রাতে দেরি করে TV দেখে বা মোবাইল ব্যবহার করে। এতে ঘুম কমে যায়, আর পরদিন মনোযোগও কমে।
তাই এখন ফাহমিদা ঘুমানোর আগে স্ক্রিন কিছুটা কমানোর চেষ্টা করেন।
আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়,  রুটিন follow করাতে ভয় না, consistency বেশি দরকার।
একদিন miss হলে চিৎকার না করে আবার ধীরে ধীরে routine-এ ফিরিয়ে আনা ভালো।
কারণ শিশুরা perfect না। তাদের habit গড়ে উঠতে সময় লাগে।
ফাহমিদার বাসায় এখনও সবদিন নিয়ম perfectly follow হয় না। কখনো বিদ্যুৎ চলে যায়, কখনো মা খুব ক্লান্ত থাকেন। তবু তারা চেষ্টা করছেন একটা ছোট learning habit তৈরি করতে।
কারণ শিক্ষা শুধু পরীক্ষার জন্য না। নিয়মিত শেখার অভ্যাসই ধীরে ধীরে শিশুকে আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল আর ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করে তোলে।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন:

FacebookTwitterWhatsAppTelegramLinkedIn

💬 মন্তব্য (0)

মন্তব্য লোড হচ্ছে...

মন্তব্য লিখুন

0/1000