লোগো
বিভাগ

মননশীলতা

শিশুর মানসিক বিকাশ

14 টি পোস্ট

যৌথ পরিবার কি শিশুর ব্যক্তিসত্তার বিকাশে সাহায্য করে?
মননশীলতা
যৌথ পরিবার কি শিশুর ব্যক্তিসত্তার বিকাশে সাহায্য করে?

গবেষণায় দেখা গেছে, মানসিকভাবে সহায়ক যৌথ পারিবারিক পরিবেশ শিশুর মধ্যে পরিবারের অংশ হওয়ার অনুভূতি গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে। ২০২০ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশু বৃহত্তর পরিবারের সহায়তার মধ্যে বড় হয়, তারা অনেক সময় বেশি...

মা-বাবার মানসিক চাপ: শিশুর আচরণে নীরব প্রভাব
মননশীলতা
মা-বাবার মানসিক চাপ: শিশুর আচরণে নীরব প্রভাব

শাহ আলম আগে বুঝতেই পারত না কেন তার তিন বছরের ছেলে রাফি হঠাৎ হঠাৎ খুব রেগে যায়। ছোট্ট একটা ব্যাপারেও কান্না শুরু করে, কখনো জিনিস ছুড়ে ফেলে, আবার কখনো চুপচাপ হয়ে বসে থাকে। প্রথমে সে ভাবত, “বাচ্চা মানুষ, আদর বেশি পেয়েছে তাই হয়তো এমন করছে।”

মা কর্মজীবী হলে শিশুর মানসিক নিরাপত্তা কীভাবে বজায় রাখা যায়?
মননশীলতা
মা কর্মজীবী হলে শিশুর মানসিক নিরাপত্তা কীভাবে বজায় রাখা যায়?

ফাহমিদা বেগম প্রতিদিন সকালে খুব ভোরে গার্মেন্টসের উদ্দেশ্যে বের হন। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় তিন বছরের ছোট ছেলেটা প্রায়ই কান্না শুরু করে দেয়। কখনো মায়ের কাপড় ধরে টানাটানি করে, কখনো দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকে। প্রথমদিকে ফাহমিদা ভাবতেন, “এটা হয়তো শুধু আদর পাওয়ার জন্য।” কিন্তু ধীরে ধীরে তিনি বুঝতে পারেন, ছেলেটার ভেতরে এক ধরনের ভয় কাজ করছে “মা যদি আর ফিরে না আসে?”

অতিরিক্ত রুটিন কি শিশুর স্বাভাবিক আবেগ কমিয়ে দেয়?
মননশীলতা
অতিরিক্ত রুটিন কি শিশুর স্বাভাবিক আবেগ কমিয়ে দেয়?

আমার মেয়ের বয়স এখন পাঁচ। আর সত্যি বলতে, ওর দৈনন্দিন রুটিন কখনো কখনো আমার নিজের ছোটবেলার পুরো সপ্তাহের রুটিনের থেকেও বেশি গোছানো মনে হয়। স্কুল, আর্ট ক্লাস, ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ, ইংরেজি চর্চা, ইত্যাদি সব মিলিয়ে ওর সময় প্রায় পুরোটা আগেই ভাগ করা থাকে।

শিশুর সাথে মা-বাবার ইমোশনাল বন্ডিং
মননশীলতা
শিশুর সাথে মা-বাবার ইমোশনাল বন্ডিং

মা হওয়ার আগে আমি ভাবতাম বাচ্চাকে ভালো খাবার দেওয়া, পরিষ্কার রাখা আর ভালো স্কুলে ভর্তি করানোর চিন্তাটাই বুঝি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মা হওয়ার পর বুঝেছি, শিশুর জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোর একটি হলো বাবা-মায়ের সাথে ইমোশনাল বন্ডিং বা মানসিক সংযোগ।

শিশুদের ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স উন্নয়ন
মননশীলতা
শিশুদের ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স উন্নয়ন

আমরা অনেকেই ভেবে থাকি শিশুদের সঠিক বিকাশ শুধু পড়াশোনা বা বুদ্ধিমত্তার উপর নির্ভর করে, কিন্তু বাস্তবে বুদ্ধিমত্তার পাশাপাশি শিশুদের সঠিক বিকাশ তাদের আবেগ বোঝা, নিয়ন্ত্রণ করা এবং অন্যের অনুভূতির প্রতি সংবেদনশীল হওয়ার উপরও নির্ভর করে। আর এই দক্ষতাকেই বলা হয় ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স বা আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা। একজন শিশু যদি ছোটবেলা থেকেই নিজের অনুভূতি বুঝতে শেখে এবং সেগুলোকে সঠিকভাবে প্রকাশ করতে পারে, তাহলে তার মানসিক, সামাজিক এবং আচরণগত বিকাশ অনেক বেশি সুস্থ ও স্বাভাবিক হয়। মনোবিজ্ঞানী Daniel Goleman তাঁর গবেষণায় দেখিয়েছেন যে জীবনে সফলতার ক্ষেত্রে শুধু আইকিউ নয়, বরং ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্সও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একটি শিশু যখন নিজের আবেগ চিনতে পারে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে, তখন সে ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাসী এবং সামাজিকভাবে দক্ষ মানুষ হয়ে ওঠে।

শিশুর আত্মপরিচয় ও আত্মসম্মান গড়ে তোলা
মননশীলতা
শিশুর আত্মপরিচয় ও আত্মসম্মান গড়ে তোলা

শিশুর সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয় হচ্ছে আত্মপরিচয় (Self-Identity) ও আত্মসম্মান (Self-Esteem) । আত্মপরিচয় বলতে বোঝায় একটি শিশু ধীরে ধীরে বুঝতে শেখে—সে কে, তার কী কী গুণ আছে, সে কী করতে পারে এবং কোন কাজগুলো করতে তার ভালো লাগে।

শিশুর কল্পনা ও গল্প বলার ক্ষমতা উন্নয়ন
মননশীলতা
শিশুর কল্পনা ও গল্প বলার ক্ষমতা উন্নয়ন

কটি শিশুর মানসিক বিকাশে কল্পনা (Imagination) এবং গল্প বলার ক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ছোটবেলা থেকেই যদি শিশুর কল্পনাশক্তিকে সঠিকভাবে উৎসাহ দেওয়া যায়, তাহলে সে শুধু সৃজনশীল (Creative) হয় না, বরং তার ভাষাগত দক্ষতা, চিন্তাভাবনা করার ক্ষমতা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতাও অনেক উন্নত হয়। একটি শিশু যখন নিজের মতো করে গল্প তৈরি করে বা কিছু কল্পনা করে, তখন সে আসলে নিজের ভেতরের চিন্তা, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাকে প্রকাশ করার সুযোগ পায়।

প্যারেন্টিং চ্যালেঞ্জ: শিশুদের সমস্যা ও সমাধান
মননশীলতা
প্যারেন্টিং চ্যালেঞ্জ: শিশুদের সমস্যা ও সমাধান

বর্তমান এই যুগে প্যারেন্টিং (Parenting) আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়ন, ব্যস্ত জীবনযাপন এবং সামাজিক পরিবর্তনের কারণে শিশুদের মানসিক ও আচরণগত সমস্যাও বেড়ে যাচ্ছে। তাই একজন অভিভাবক হিসেবে শিশুকে শুধু ভালোবাসা দেয়াই যথেষ্ট নয়, বরং সঠিক দিকনির্দেশনা ও সচেতনতারও প্রয়োজন রয়েছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুর প্রথম ৫ বছর তার মস্তিষ্কের প্রায় ৯০% বিকাশ ঘটে তাই এই সময়ের যত্নই তার ভবিষ্যৎ গড়ে দেয়।

সৃজনশীলতা ও দক্ষতা উন্নয়ন (ছবি আঁকা)
মননশীলতা
সৃজনশীলতা ও দক্ষতা উন্নয়ন (ছবি আঁকা)

ছবি আঁকা হচ্ছে শিশুর মনের ভাষা প্রকাশের একটি বড় মাধ্যম। একটি শিশু যখন তার চারপাশের পরিবেশ দেখে তখন সে ঐ পরিবেশ থেকে যা উপলব্ধি করে তা সে ছবি আঁকার মাধ্যমে প্রকাশ করে। আমরা অভিভাবকরা অনেক সময় ভেবে থাকি ছবি আঁকা মানে কেবল কিছু আঁকিবুঁকি আর রং করা কিন্তু ছবি আঁকা হচ্ছে মূলত শিশুদের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

শিশুর সৃজনশীলতা বিকাশের মাধ্যম
মননশীলতা
শিশুর সৃজনশীলতা বিকাশের মাধ্যম

শিশুর সৃজনশীলতা তার চিন্তাভাবনা, কল্পনাশক্তি এবং যেকোনো ধরণের সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একটি শিশু যখন নতুন কিছু ভাবতে পারে, নিজের মতো করে কিছু তৈরি করতে পারে বা কোনো সমস্যার ভিন্ন সমাধান খুঁজে বের করতে পারে, সেটিই তার সৃজনশীলতার প্রকাশ। সৃজনশীলতা শিশুদের আত্মবিশ্বাস, মনোযোগ এবং ধৈর্য বাড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক দক্ষতাও বাড়ায়। মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, সৃজনশীল কাজ শিশুদের মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ সক্রিয় করে এবং শেখার প্রক্রিয়াকে আরও আনন্দময় করে তোলে, ফলে তারা বিষয়গুলো খুব সহজে বোঝতে সক্ষম হয়।

স্ক্রিন টাইম পরিমিত রাখার উপায়
মননশীলতা
স্ক্রিন টাইম পরিমিত রাখার উপায়

ডিজিটাল এই যুগে শিশুদের জন্য স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, কম্পিউটার বা টিভি ব্যবহার এখন একেবারেই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। কিন্তু বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শিশুদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যেমন চোখের সমস্যা, ঘুমের ঘাটতি, মনোযোগের অভাব, ধৈর্য কমে যাওয়া এবং সামাজিক দক্ষতা কমে যাওয়া ইত্যাদি। যদিও বর্তমান যুগে শূন্য স্ক্রিন টাইম প্রায় অসম্ভব কিন্তু স্ক্রিন টাইম পরিমিত রাখা সম্ভব। তাছাড়া যদি স্ক্রিন টাইম একেবারে শূন্য রাখা হয় তবে বাচ্চারা বর্তমান বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে নতুন নতুন টেকনোলজির সাথে পরিচিত হতে পারবে না বা পিছিয়ে পড়বে। কেননা শিশুরা বিভিন্নধরণের শিক্ষামূলক ইন্টারেক্টিভ কনটেন্টের মাধ্যমে নতুন নতুন বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে খুব সহজেই জানতে পারে। সেটি হতে পারে বিজ্ঞান সম্পর্কে, মহাবিশ্ব সম্পর্কে আবার নিজেদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ইত্যাদি নানা বিষয় সম্পর্কে।

স্ক্রিন টাইম
মননশীলতা
স্ক্রিন টাইম

বর্তমান সময়ে আমাদের মা-বাবাদের সময় উপযোগী একটি অভিযোগ হচ্ছে বাচ্চা মোবাইলে আসক্ত। কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি সময়ের সাথে সাথে বাচ্চা কেনো মোবাইলে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে? এই আসক্তি কি হঠাৎ করে শুরু নাকি ধীরেধীরে অনেক সময় নিয়ে তৈরি হয়েছে? মূলত বাবর্তমান সময়ে আমাদের মা-বাবাদের সময় উপযোগী একটি অভিযোগ হচ্ছে বাচ্চা মোবাইলে আসক্ত। কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি সময়ের সাথে সাথে বাচ্চা কেনো মোবাইলে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে? এই আসক্তি কি হঠাৎ করে শুরু নাকি ধীরেধীরে অনেক সময় নিয়ে তৈরি হয়েছে?

পরিবারে সময় কাটানো: শিশুর মানসিক বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ
মননশীলতা
পরিবারে সময় কাটানো: শিশুর মানসিক বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ

বর্তমান ব্যস্ত জীবনে আমরা অনেক সময়ই পরিবারের সাথে কাটানো সময়কে তেমন গুরুত্ব দিতে পারি না। কাজের চাপ, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দৈনন্দিন ব্যস্ততার কারণে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দূরত্ব ধীরে ধীরে বাড়ছে। কিন্তু একটি শিশুর সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্য পরিবারের সাথে সময় কাটানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশুরা পরিবারের সাথে নিয়মিত সময় কাটায়, তারা মানসিকভাবে বেশি স্থিতিশীল, আত্মবিশ্বাসী এবং সামাজিকভাবে দক্ষ হয়ে ওঠে।