লোগো

3 টি ট্যাগ

ট্যাগ ফিল্টার করুন

আত্মনিয়ন্ত্রণআত্মবিশ্বাসউচ্চ মধ্যবিত্তউচ্চবিত্তউৎসবএকক পরিবারএকক সন্তানএকাধিক সন্তানকর্মজীবী পরিবারকল্পনাশক্তিখাদ্যগ্রামীণ পরিবারডিজিটাল শিক্ষানবজাতক শিশুনিম্ন মধ্যবিত্তনিম্নআয়ের পরিবারনিম্নবিত্তনৈতিক শিক্ষাপড়াশোনার অভ্যাসপরামর্শপারিবারিক ঐতিহ্যপিতামাতাপ্যারেন্টিং ইস্যুপ্রারম্ভিক শিক্ষাবই পড়ার অভ্যাসবয়স ০-১বয়স ১-৩বয়স ১০-১৩বয়স ১৩-১৫বয়স ২-৭বয়স ৩-৫বয়স ৫-৭বয়স ৭-১০বাবা ও শিশুবাংলা শিক্ষাবাংলা সংস্কৃতিবাংলাদেশি প্যারেন্টিংবিনোদনভাষা বিকাশমধ্যবিত্তমননশীলতা মনোযোগ বৃদ্ধিমা ও শিশুমানসিক বিকাশমূল্যবোধযৌথ পরিবারশহুরে পরিবারশারীরিক বিকাশশিক্ষণ পদ্ধতিশিক্ষাশিক্ষামূলক খেলাশিশুশিশু যত্নশিশুর আচরণশিশুর আবেগসম্মানবোধসহানুভূতিসাধারণ সমস্যাসামাজিক দক্ষতাসামাজিক মূল্যবোধসৃজনশীলতাস্কুল প্রস্তুতিস্ক্রিন টাইমস্বাস্থ্যহোমওয়ার্ক
মোবাইল ছাড়া খেতে চায় না: শিশুর এই অভ্যাস ধীরে ধীরে কীভাবে কমাবেন
জিজ্ঞাসা
মোবাইল ছাড়া খেতে চায় না: শিশুর এই অভ্যাস ধীরে ধীরে কীভাবে কমাবেন

প্রশ্নঃ আমার ছেলে ৪ বছর বয়সী, একমাত্র সন্তান। প্রথম প্রথম খাওয়ানোর সময় মোবাইল দিতাম। এখন এমন হয়েছে, মোবাইল ছাড়া এক লোকমাও খায় না। মোবাইল বন্ধ করলেই কান্না শুরু করে। ধীরে ধীরে এই অভ্যাস কীভাবে বাদ দিতে পারি?

সপ্তাহে একদিনের পারিবারিক ঘোরাঘুরি: সন্তানের জন্য অমূল্য উপহার
বিনোদন
সপ্তাহে একদিনের পারিবারিক ঘোরাঘুরি: সন্তানের জন্য অমূল্য উপহার

শাহ আলম সপ্তাহে ছয় দিন রাস্তার পাশে বসে জুতা মেরামতের কাজ করে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ, তারপর সংসারের হিসাব, বাজারের চিন্তা, বাড়িভাড়া, ওষুধ, সব মিলিয়ে জীবনটা যেন প্রতিদিন একই ছন্দে আটকে আছে। তার স্ত্রীও অন্যের বাসায় কাজ করেন। এখন তিনি চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা, তাই আগের মতো সবকিছু সামলাতে গিয়ে দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়েন। তিন বছরের ছেলে রাফি বেশিরভাগ সময় ছোট্ট ঘরের ভেতরেই খেলাধুলা করে।

সবচেয়ে দামী খেলনা কি বাবা-মায়ের মনোযোগের বিকল্প হতে পারে?
বিনোদন
সবচেয়ে দামী খেলনা কি বাবা-মায়ের মনোযোগের বিকল্প হতে পারে?

সন্তান হওয়ার পর একটা জিনিস আমি খুব কাছ থেকে বুঝেছি, বাজারে শিশুদের জন্য জিনিসের কোনো শেষ নেই। দামি মিউজিক্যাল খেলনা, স্মার্ট শেখার যন্ত্র, স্বয়ংক্রিয় দোলনা, বিদেশি অ্যাক্টিভিটি সেট দেখে অনেক সময় মনে হয়, “এসব না কিনলে বুঝি শিশুর বিকাশ পিছিয়ে যাবে।” আমাদের মতো উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারে এই চাপ আরও বেশি। আত্মীয়স্বজনও অনেক সময় বলেন, “বাচ্চাদের জন্য সেরা জিনিসটাই তো নিতে হবে।” আমিও শুরুতে ভাবতাম, বেশি দামি খেলনা মানেই হয়তো বেশি শেখা।

নবজাতকের সার্বিক বিকাশে বাবা কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারেন?
শিক্ষা
নবজাতকের সার্বিক বিকাশে বাবা কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারেন?

আমাদের দেশে এখনো অনেক পরিবারে খুব সাধারণ একটা ধারণা হলো নবজাতক শিশু মানেই “মায়ের দায়িত্ব”। বাবা মূলত বাইরে কাজ করবে, উপার্জন করবে, আর শিশুর আসল যত্ন নেবে মা ও পরিবারের অন্য নারীরা। যমজ ছেলে হওয়ার আগে আমিও অনেকটা এমনটাই ভাবতাম। মনে হতো, এত ছোট বাচ্চার সাথে “শেখানো” আবার কী!

শিশুর স্ক্রিন টাইম: শুধু বিনোদন নয়, শেখার সুযোগও হতে পারে
বিনোদন
শিশুর স্ক্রিন টাইম: শুধু বিনোদন নয়, শেখার সুযোগও হতে পারে

আমাদের বাসায় একটা সময় ছিল, যখন স্ক্রিন টাইম নিয়ে আমি খুবই বিরক্ত হয়ে যেতাম। হাসপাতালে দীর্ঘ সময় কাজ শেষ করে বাসায় ফিরে দেখতাম, আমার মেয়ে ট্যাবলেট নিয়ে কার্টুন দেখছে। প্রথমে মনে হতো, পুরো বিষয়টাই একদম বন্ধ করে দিই। কিন্তু পরে বুঝলাম, আজকের সময়ে স্ক্রিন পুরোপুরি এড়িয়ে চলা প্রায় অসম্ভব। বরং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শিশু স্ক্রিনে কী দেখছে, কতক্ষণ দেখছে, আর কীভাবে ব্যবহার করছে। সত্যি বলতে, সব স্ক্রিন টাইম একরকম না।

মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য শিশুর স্ক্রিনবিহীন ১০টি বিনোদনমূলক কার্যক্রম
বিনোদন
মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য শিশুর স্ক্রিনবিহীন ১০টি বিনোদনমূলক কার্যক্রম

এখনকার সময়ে ছোট বাচ্চাকে কিছুক্ষণ শান্ত রাখতে গেলেই সবার আগে মোবাইলের কথা মাথায় আসে। সত্যি বলতে, আমি নিজেও এর বাইরে ছিলাম না। আমার ছেলে যখন বেশি কান্না করত বা আমি রান্নার কাজে ব্যস্ত থাকতাম, তখন কার্টুন চালিয়ে দেওয়া অনেক সহজ সমাধান মনে হতো। কিন্তু ধীরে ধীরে খেয়াল করলাম, মোবাইল বেশি দেখার দিনগুলোতে ও বেশি রেগে যাচ্ছে, মনোযোগ কমে যাচ্ছে, আর ছোট ছোট জিনিসেও বিরক্ত হচ্ছে। তখন থেকেই ভাবতে শুরু করি, স্ক্রিন ছাড়া কি ওকে আনন্দ দেওয়া সম্ভব?

ব্যস্ত রুটিনের মাঝেও পরিবারের জন্য সময় রাখা কেন জরুরি?
বিনোদন
ব্যস্ত রুটিনের মাঝেও পরিবারের জন্য সময় রাখা কেন জরুরি?

ব্যস্ততা যেন আমাদের সবাইকে একদম জড়িয়ে ফেলছে। আমার স্বামী সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যবসার কাজে বাইরে থাকে। বাসায় ফিরে ও ক্লান্ত থাকে, এটা খুব স্বাভাবিক। আর আমি সারাদিন দুই বাচ্চা, রান্না, ঘরের কাজ সামলে দিনের শেষে এমন ক্লান্ত হয়ে যাই যে অনেক সময় নিজের সাথেই কথা বলতে ইচ্ছা করে না। এই ব্যস্ততার মধ্যে বুঝতেই পারিনি যে আমরা একই বাসায় থাকলেও, পরিবারের সাথে খুবই কম পরিমান সময় কাটানো হচ্ছে।

শরীরচর্চামূলক খেলাধুলা
বিনোদন
শরীরচর্চামূলক খেলাধুলা

শাহ আলমের ছেলে রাফির বয়স তিন বছর। ছোট্ট বাসা, চারপাশে ব্যস্ত রাস্তা, খেলাধুলার জন্য বড় মাঠও খুব একটা নেই। তাই বেশিরভাগ সময় রাফি বাসার ভেতরেই থাকে। কখনো মায়ের মোবাইলে ভিডিও দেখে, কখনো ছোট গাড়ি নিয়ে খেলে। কিন্তু রাফি খুব দ্রুত বিরক্ত হয়ে যায়, রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে চায় না, আবার ছোট্ট কিছুতেই রেগে যায় বিষয়গুলো এক সময় শাহ আলম খেয়াল করতে শুরু করেছিল। একদিন পাশের এলাকার এক স্বাস্থ্যকর্মী তাকে বললেন, “বাচ্চাদের শরীরচর্চামূলক খেলাধুলা খুব দরকার।” প্রথমে শাহ আলম ভাবল, “এই ছোট্ট বাচ্চা আবার কী শরীরচর্চা করবে?” আসলে ছোট শিশুদের জন্য শরীরচর্চা মানে জিম বা ব্যায়াম না। দৌড়ানো, লাফানো, বল গড়ানো, হাত-পা নেড়ে খেলা, এসবই তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শরীরচর্চামূলক খেলাধুলা।

নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস দিয়ে ক্রিয়েটিভ খেলনা বানানো
মননশীলতা
নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস দিয়ে ক্রিয়েটিভ খেলনা বানানো

শাহ আলম প্রায়ই একটা ব্যাপার খেয়াল করে। সারাদিন রাস্তার পাশে বসে জুতা সেলাই করার পর যখন বাসায় ফেরে, তার তিন বছরের ছেলে রাফি মোবাইল দেখতে চায়। বাসার এক কোণে বসে থাকা ছেলেটার জন্য নতুন খেলনা কেনার সামর্থ্য সবসময় থাকে না। বাজারে চাল, ডাল, ওষুধ, এসবের দাম সামলাতেই মাস শেষ হয়ে যায়।

স্ক্রিন ছাড়াও কি শিশুর বিনোদন সম্ভব?
বিনোদন
স্ক্রিন ছাড়াও কি শিশুর বিনোদন সম্ভব?

আমি একজন চাকরিজীবী বাবা। সত্যি কথা বলতে কী, অনেক সময় ক্লান্তির কারণে মোবাইল বা কার্টুন আমাদের জন্য সহজ সমাধান হয়ে যায়। অফিস থেকে ফিরে যখন মাথা আর কাজ করতে চায় না, তখন বাচ্চাকে কিছুক্ষণ স্ক্রিনের সামনে বসিয়ে রাখাটা বেশ সহজ মনে হয়। আমিও করেছি। বিশেষ করে আমার চার বছরের ছেলে খুব দ্রুত ইউটিউব আর কার্টুনের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছিল। একসময় এমন হয়েছিল, মোবাইল না দিলে সে বিরক্ত হয়ে যেত। তখন আমি আর ওর মা বুঝলাম, বিষয়টা নিয়ে একটু সচেতন হওয়া দরকার।

শিশুর শিক্ষায় অনলাইন রিসোর্সের সঠিক ব্যবহার
শিক্ষা
শিশুর শিক্ষায় অনলাইন রিসোর্সের সঠিক ব্যবহার

কয়েক বছর আগেও আমি ভাবতাম পড়াশোনা মানেই বই-খাতা আর স্কুল। কিন্তু এখন সময় অনেক বদলে গেছে। এখন ছোট শিশুরাও ইউটিউবে ছড়া দেখে, মোবাইল অ্যাপে অক্ষর শেখে, অনলাইন গেমের মাধ্যমে সংখ্যা চর্চা করে। একজন বাবা হিসেবে আমিও ধীরে ধীরে বিভিন্ন অনলাইন রিসোর্স ব্যবহার করতে শিখছি। তবে একটা জিনিস খুব দ্রুত বুঝেছি, ইন্টারনেটে শিক্ষামূলক কনটেন্ট অনেক আছে ঠিকই, কিন্তু সব কনটেন্ট সমানভাবে উপকারী নয়। আবার অনলাইন শেখা যদি ভারসাম্য ছাড়া হয়, তাহলে সেটার নেতিবাচক প্রভাবও থাকতে পারে।

ঘুমের অভাব শিশুর শেখার ক্ষমতাকে কীভাবে প্রভাবিত করে?
স্বাস্থ্য
ঘুমের অভাব শিশুর শেখার ক্ষমতাকে কীভাবে প্রভাবিত করে?

বাবা হওয়ার আগে আমি ভাবতাম শিশুদের ঘুম মানে শুধু বিশ্রাম। বাচ্চা ঘুমালে শান্ত থাকে, কম কান্না করে, এই পর্যন্তই। কিন্তু সন্তান বড় হতে শুরু করার পর বুঝলাম, ঘুম আসলে শিশুর শেখা, আচরণ, মনোযোগ, এমনকি মস্তিষ্কের বিকাশের সাথেও গভীরভাবে জড়িত। আমার চার বছরের ছেলে যখন রাতে ঠিকমতো ঘুমায় না, পরের দিন সেটা খুব স্পষ্ট বোঝা যায়। ছোট ছোট বিষয়েও রেগে যায়, মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না, কখনো খেলতে খেলতেই বিরক্ত হয়ে পড়ে। আগে ভাবতাম হয়তো মুড খারাপ। পরে বুঝলাম, অনেক সময় সমস্যার মূল কারণ ঘুমের অভাব।

শিশুর সাথে প্রতিদিন কমপক্ষে ১৫ মিনিট Quality Time কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
মননশীলতা
শিশুর সাথে প্রতিদিন কমপক্ষে ১৫ মিনিট Quality Time কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

আমি একজন চাকরিজীবী বাবা। সকাল থেকে অফিস ও সংসারের দায়িত্ব সামলিয়ে দিনের শেষে মনে হয় নিজের জন্যই সময় থাকে না। কিন্তু বাবা হওয়ার পর বুঝতে পারলাম শিশুদের সবসময় অনেক খেলনা, দামি জিনিস বা বড় আউটিং দরকার হয় না। অনেক সময় তারা শুধু চায় বাবা-মা একটু মন দিয়ে তাদের পাশে বসুক।

বকাঝকা নয়, কৌশলে কমান শিশুর কার্টুন দেখার অভ্যাস
বিনোদন
বকাঝকা নয়, কৌশলে কমান শিশুর কার্টুন দেখার অভ্যাস

ফাহমিদা বেগম মাঝে মাঝে অবাক হয়ে দেখেন, তার তিন বছরের ছেলে এখন কার্টুনের সংলাপ মুখস্থ বলে ফেলতে পারে। কিন্তু পাশের বাসার খালার নাম মনে থাকে না। সকালে ঘুম থেকে উঠেই প্রথম কথা হয় তার “মোবাইল দাও।” না দিলে কান্না, জিনিসপত্র ছোড়া, মাটিতে গড়াগড়ি। একসময় ফাহমিদা ভাবতেন, “সব বাচ্চাই তো কার্টুন দেখে।” কিন্তু পরে তিনি বুঝতে পারেন, বিষয়টা শুধু কার্টুন দেখা না, ধীরে ধীরে শিশুর অন্য সব আনন্দ কমে যাচ্ছে। আজকাল অনেক পরিবারেই এই সমস্যা দেখা যায়। বিশেষ করে ছোট বাসা, নিরাপদ খেলার জায়গার অভাব এবং মা-বাবার কাজের চাপ, সব মিলিয়ে স্ক্রিন অনেক সময় শিশুর সবচেয়ে সহজ সঙ্গী হয়ে যায়।

সাধ্যের মধ্যে শিশুদের বিনোদন এর ক্ষেত্র কি কি হতে পারে?
বিনোদন
সাধ্যের মধ্যে শিশুদের বিনোদন এর ক্ষেত্র কি কি হতে পারে?

ফাহমিদা বেগমের তিন সন্তানই খেলতে খুব ভালোবাসে। কিন্তু সবসময় খেলনা কিনে দেওয়ার মতো সামর্থ্য তাদের নেই। মাস শেষে বাসাভাড়া, বাজার আর স্কুলের খরচ মেটাতেই অনেক সময় হিমশিম খেতে হয়। তাই ঈদ ছাড়া নতুন খেলনা খুব একটা আসে না বাসায়। তবু ফাহমিদা একটা বিষয় খেয়াল করেছেন, বাচ্চারা আসলে সবসময় দামি খেলনা খোঁজে না, তারা খোঁজে আনন্দ আর সঙ্গ। এক বিকেলে গলির সামনে দেখা গেল, তার ছোট ছেলেটা একটা পুরোনো রিকশার টায়ার লাঠি দিয়ে ঠেলে দৌড়াচ্ছে। পাশে আরও কয়েকজন শিশু। হাসতে হাসতে সবার অবস্থা শেষ। অথচ সেখানে কোনো ব্যাটারিচালিত গাড়ি বা দামি খেলনা ছিল না।

মোবাইল কি শিশুর শিক্ষাক্ষেত্রে ভালো মাধ্যম হতে পারে?
শিক্ষা
মোবাইল কি শিশুর শিক্ষাক্ষেত্রে ভালো মাধ্যম হতে পারে?

ফাহমিদা বেগমের বাসায় আলাদা কোনো ট্যাবলেট, ল্যাপটপ বা স্মার্ট টিভি নেই। বাচ্চাদের পড়াশোনা বা কার্টুন সবকিছুই চলে একটা কম দামের অ্যান্ড্রয়েড ফোনে। গার্মেন্টস থেকে ফিরতে দেরি হলে অনেক সময় ছোট ছেলেটাকে শান্ত রাখতে ফোনই ভরসা হয়ে যায়। একদিন তিনি খেয়াল করলেন, তিন বছরের ছেলে ইউটিউব খুলে নিজেই কার্টুন চালাতে শিখে গেছে। কিন্তু সমস্যা হলো, সে এখন খাওয়ার সময়, ঘুমানোর আগে, এমনকি মাঝরাতেও মোবাইল চাইছে। এটা দেখে ফাহমিদার মনে প্রশ্ন আসে, “মোবাইল কি পুরোপুরি খারাপ? নাকি ঠিকভাবে ব্যবহার করলে শেখার কাজেও লাগতে পারে?”

স্ক্রিন টাইমকে কীভাবে লার্নিং টাইমে রূপান্তর করবেন?
শিক্ষা
স্ক্রিন টাইমকে কীভাবে লার্নিং টাইমে রূপান্তর করবেন?

একটা সময় ছিল, যখন আমি ভাবতাম ছোট বাচ্চাদের হাতে মোবাইল বা ট্যাব দেওয়া মানেই খারাপ অভ্যাস। বিশেষ করে একজন মা হিসেবে সবসময় একটা ভয় কাজ করত, বেশি স্ক্রিন ব্যবহার কি আমার মেয়ের মনোযোগ, আচরণ বা শেখার ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে? কিন্তু ধীরে ধীরে বুঝলাম, আজকের পৃথিবীতে প্রযুক্তিকে পুরোপুরি এড়িয়ে চলা প্রায় অসম্ভব। শিশুরা এখন এমন এক পরিবেশে বড় হচ্ছে, যেখানে স্মার্ট ডিভাইস তাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। তখন আমি বিষয়টাকে অন্যভাবে ভাবা শুরু করি। “কীভাবে পুরোপুরি বন্ধ করব” এর বদলে “কীভাবে সঠিকভাবে ব্যবহার শেখাব”, এই চিন্তাটাই আমার কাছে বেশি বাস্তবসম্মত মনে হয়েছে।

শিশুর জন্য ইউটিউবের শিক্ষামূলক কনটেন্ট কতটা উপকারী?
শিক্ষা
শিশুর জন্য ইউটিউবের শিক্ষামূলক কনটেন্ট কতটা উপকারী?

অনেক বাবা-মায়ের মতো আমরাও কখনো কখনো ইউটিউবের শিক্ষামূলক ভিডিও চালিয়ে দিই। বিশেষ করে আমার চার বছরের ছেলে বর্ণমালা, প্রাণী বা সংখ্যা শেখার ভিডিও দেখতে খুব পছন্দ করে। কিছু ভিডিও দেখে মনে হয় সত্যিই শিশুকে কিছু শেখাচ্ছে। আবার কিছু ভিডিও শুধু...

“মোবাইল না দিলে কান্না” এর পেছনের মানসিক কারণ
মননশীলতা
“মোবাইল না দিলে কান্না” এর পেছনের মানসিক কারণ

আমার ছেলেটার বয়স এখন তিন বছর। কিছুদিন আগেও একটা সময় ছিল, যখন মোবাইল না দিলে ও এমন কান্না করত যে আমি সত্যি ভয় পেয়ে যেতাম। রান্না করছি, ছোট মেয়েটাকে সামলাচ্ছি, ঘরের কাজ বাকি, এই অবস্থায় চুপ করানোর সবচেয়ে সহজ উপায় ছিল মোবাইল হাতে ধরিয়ে দেওয়া। শুরুতে ব্যাপারটা নিরাপদ মনে হয়েছিল। কার্টুন দেখছে, ছড়া শুনছে, আমি একটু কাজ করতে পারছি, খারাপ কী? কিন্তু ধীরে ধীরে খেয়াল করলাম, মোবাইল বন্ধ করলেই রাগ, কান্না, জিনিস ছোড়া, খেতে না চাওয়া, এসব আচরণ বাড়ছে। তখন বুঝলাম, এটা শুধু “বাচ্চার জেদ” না, এর পেছনে মানসিক কারণও আছে।

ভাইবোনদের একসাথে খেলাধুলার উপকারিতা
বিনোদন
ভাইবোনদের একসাথে খেলাধুলার উপকারিতা

ফাহমিদা বেগমের বাসায় আলাদা খেলনার বাক্স নেই, বড় কোনো খেলার ঘরও নেই। কিন্তু বিকেল হলেই তার তিন সন্তান মিলে পুরো ঘরটাকে যেন খেলাধুলার দুনিয়া বানিয়ে ফেলে। কখনো বড় দুই বোন ছোট ভাইকে নিয়ে “স্কুল স্কুল” খেলে, কখনো বালিশ দিয়ে ঘর বানায়, কখনো আবার ঝগড়া করতে করতেই আবার খেলতে শুরু করে।

বাবা-সন্তানের দূরত্ব কমাতে যেসব খেলা সাহায্য করে
বিনোদন
বাবা-সন্তানের দূরত্ব কমাতে যেসব খেলা সাহায্য করে

ব্যবসার কাজের কারণে আমার দিনের বড় একটা সময় বাইরে কাটে। তাই যমজ ছেলেরা জন্মানোর পর প্রথম কয়েক মাস আমার ভেতরে একটা অদ্ভূত ভয় কাজ করত, “ওরা কি আমাকে যথেষ্ট চিনবে?”, “মায়ের সাথে যেমন কম্ফোর্ট ফিল করে, আমার সাথেও কি করবে?” শুরুতে আমি ভাবতাম, শিশুর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলা মানে অনেক বড় কিছু। পরে বুঝলাম, ছোট ছোট মুহূর্তই আসলে সবচেয়ে দৃঢ় সম্পর্ক তৈরি করে। আর শিশুর সঙ্গে সেই সম্পর্ক গড়ে তোলার সবচেয়ে স্বাভাবিক উপায়গুলোর একটি হলো “খেলা”।

শিশুর শিক্ষামূলক ভিডিও: সাহায্য করে নাকি ক্ষতি করে?
শিক্ষা
শিশুর শিক্ষামূলক ভিডিও: সাহায্য করে নাকি ক্ষতি করে?

যমজ ছেলে হওয়ার পর আমাদের বাসায় একটা জিনিস খুব কমন হয়ে গিয়েছিল, ইউটিউব রেকমেন্ডেশন। কেউ বলছে “এই ভিডিও দিলে বাচ্চা ABC শিখবে”, কেউ বলছে “এই ছড়া শুনলে বাচ্চা শান্ত থাকে”, আবার কেউ বলছে “আজকালকার বাচ্চারা মোবাইল দিয়েই দ্রুত শেখে।” সত্যি বলতে, আমিও একসময় কৌতূহল থেকে “শিশুদের শিক্ষামূলক ভিডিও” চালিয়ে দেখেছিলাম। উজ্জ্বল রং, আকর্ষণীয় মিউজিক, নড়াচড়া করা শেপস ইত্যাদি দেখে মনে হয় সত্যিই শিক্ষামূলক কিছু। কিন্তু পরে বিষয়টা নিয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে বুঝলাম, ব্যাপারটা আসলে এতটা সহজ না।

ভাই-বোনের সম্পর্ক মজবুত করতে ঘরোয়া খেলাধুলার গুরুত্ব
বিনোদন
ভাই-বোনের সম্পর্ক মজবুত করতে ঘরোয়া খেলাধুলার গুরুত্ব

আমি আর আমার স্বামী এখন একটা বিষয় নিয়ে প্রায়ই ভাবি, কীভাবে ছেলেমেয়েদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই সুন্দর সম্পর্ক তৈরি করা যায়। যদিও এখনো ওদের সেরকমভাবে খেলার বয়স হয়নি যেহেতু মেয়েটার বয়স মাত্র ৩ মাস। আমি আশেপাশে অনেক পরিবারেই দেখেছি, ভাইবোন একই ঘরে বড় হলেও তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়ে যায়। আবার কিছু ভাইবোন আছে, যারা বড় হয়েও একে অপরের সবচেয়ে বড় ভরসা হয়।

বাচ্চাদের মনের বিকাশ: খেলাধুলা ও বইপড়া
শিক্ষা
বাচ্চাদের মনের বিকাশ: খেলাধুলা ও বইপড়া

আমরা অনেক সময় আমাদের শিশুরা যখন খেলতে বসে, তখন তাকে থামিয়ে দিয়ে পড়তে বসাই বা যখন বই নিয়ে বসে, তখন তাকে খেলতে পাঠাই। আমরা বইপড়া ও খেলাধুলাকে অনেক সময় আলাদা করে দেখি, কিন্তু সত্যিটা হলো খেলাধুলা এবং বইপড়া দুইটিই শিশুর জন্য সমান গুরুত্বের এবং এগুলো একসাথে শিশুর মনের সঠিক বিকাশে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকা রাখে।

শিশুকে নিজের দেশের সংস্কৃতি জানাতে উৎসাহিত করা
মূল্যবোধ
শিশুকে নিজের দেশের সংস্কৃতি জানাতে উৎসাহিত করা

সচেতন অভিভাবক হিসেবে আমাদের একটি গুরু দায়িত্ব হচ্ছে আমাদের শিশুকে নিজের দেশের সংস্কৃতি জানাতে উৎসাহিত করা, কেননা এটি একটি শিশুর পরিচয়, মূল্যবোধ এবং মানসিক গঠনের সাথে গভীরভাবে জড়িত। একটি শিশু যখন ছোটবেলা থেকেই নিজের দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে শুরু করে, তখন সে নিজের শিকড় সম্পর্কে সচেতন হয় এবং নিজের পরিচয় নিয়ে গর্ববোধ করতে শেখে। নিজের দেশের সংস্কৃতি জানার মাধ্যমে একটি শিশু বুঝতে পারে তার ভাষা, ঐতিহ্য, ইতিহাস এবং সমাজের গুরুত্ব কী। এই কারণেই শিশুকে নিজের দেশের সংস্কৃতি শেখানো শুধু একটি অতিরিক্ত বিষয় নয়, বরং তার সঠিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত জরুরি। নিজের দেশের সংস্কৃতি একটি শিশুর আত্মপরিচয় গঠনে সহায়তা করে এবং তাকে আত্মবিশ্বাসীও করে তোলে।

সৃজনশীলতা ও দক্ষতা উন্নয়ন (ছবি আঁকা)
মননশীলতা
সৃজনশীলতা ও দক্ষতা উন্নয়ন (ছবি আঁকা)

ছবি আঁকা হচ্ছে শিশুর মনের ভাষা প্রকাশের একটি বড় মাধ্যম। একটি শিশু যখন তার চারপাশের পরিবেশ দেখে তখন সে ঐ পরিবেশ থেকে যা উপলব্ধি করে তা সে ছবি আঁকার মাধ্যমে প্রকাশ করে। আমরা অভিভাবকরা অনেক সময় ভেবে থাকি ছবি আঁকা মানে কেবল কিছু আঁকিবুঁকি আর রং করা কিন্তু ছবি আঁকা হচ্ছে মূলত শিশুদের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

স্ক্রিন টাইম পরিমিত রাখার উপায়
মননশীলতা
স্ক্রিন টাইম পরিমিত রাখার উপায়

ডিজিটাল এই যুগে শিশুদের জন্য স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, কম্পিউটার বা টিভি ব্যবহার এখন একেবারেই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। কিন্তু বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শিশুদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যেমন চোখের সমস্যা, ঘুমের ঘাটতি, মনোযোগের অভাব, ধৈর্য কমে যাওয়া এবং সামাজিক দক্ষতা কমে যাওয়া ইত্যাদি। যদিও বর্তমান যুগে শূন্য স্ক্রিন টাইম প্রায় অসম্ভব কিন্তু স্ক্রিন টাইম পরিমিত রাখা সম্ভব। তাছাড়া যদি স্ক্রিন টাইম একেবারে শূন্য রাখা হয় তবে বাচ্চারা বর্তমান বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে নতুন নতুন টেকনোলজির সাথে পরিচিত হতে পারবে না বা পিছিয়ে পড়বে। কেননা শিশুরা বিভিন্নধরণের শিক্ষামূলক ইন্টারেক্টিভ কনটেন্টের মাধ্যমে নতুন নতুন বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে খুব সহজেই জানতে পারে। সেটি হতে পারে বিজ্ঞান সম্পর্কে, মহাবিশ্ব সম্পর্কে আবার নিজেদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ইত্যাদি নানা বিষয় সম্পর্কে।

স্ক্রিন টাইম
মননশীলতা
স্ক্রিন টাইম

বর্তমান সময়ে আমাদের মা-বাবাদের সময় উপযোগী একটি অভিযোগ হচ্ছে বাচ্চা মোবাইলে আসক্ত। কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি সময়ের সাথে সাথে বাচ্চা কেনো মোবাইলে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে? এই আসক্তি কি হঠাৎ করে শুরু নাকি ধীরেধীরে অনেক সময় নিয়ে তৈরি হয়েছে?

স্ক্রিন টাইম বনাম বই পড়া
শিক্ষা
স্ক্রিন টাইম বনাম বই পড়া

বর্তমান সময়ে শিশুদের জীবনে স্ক্রিন একটি বড় অংশ হয়ে উঠেছে। মোবাইল, ট্যাব বা টেলিভিশন এখন প্রায় সব ঘরেই আছে। তাই অনেক অভিভাবকের মনে প্রশ্ন জাগে স্ক্রিন টাইম ভালো, নাকি বই পড়া বেশি উপকারী? American Academy of Pediatrics এর বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে দেখা যায় যে বিষয়টি একপাক্ষিক নয়। প্রযুক্তি যেমন নতুন নতুন জ্ঞান আহরণের নতুন নতুন সুযোগ তৈরি করেছে, তেমনি এর অতিরিক্ত ব্যবহার কিছু ঝুঁকিও তৈরি করছে। তাই স্ক্রিন টাইম ও বই পড়ার মধ্যে তুলনার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক ভারসাম্য রাখা। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে অভিভাবকের উপস্থিতি ও দিকনির্দেশনা সবচেয়ে জরুরি। সেটি স্ক্রিন টাইম হোক বা বই পড়া, দুটিই সচেতনভাবে ব্যবহার করতে হবে।