লোগো

3 টি ট্যাগ

ট্যাগ ফিল্টার করুন

আত্মনিয়ন্ত্রণআত্মবিশ্বাসউচ্চ মধ্যবিত্তউচ্চবিত্ত✓ উৎসবএকক পরিবারএকক সন্তানএকাধিক সন্তানকর্মজীবী পরিবারকল্পনাশক্তিখাদ্যগ্রামীণ পরিবারডিজিটাল শিক্ষানবজাতক শিশুনিম্ন মধ্যবিত্তনিম্নআয়ের পরিবারনিম্নবিত্তনৈতিক শিক্ষাপড়াশোনার অভ্যাসপরামর্শপারিবারিক ঐতিহ্যপিতামাতাপ্যারেন্টিং ইস্যুপ্রারম্ভিক শিক্ষাবই পড়ার অভ্যাসবয়স ০-১বয়স ১-৩বয়স ১০-১৩বয়স ১৩-১৫বয়স ২-৭বয়স ৩-৫বয়স ৫-৭বয়স ৭-১০বাবা ও শিশুবাংলা শিক্ষাবাংলা সংস্কৃতিবাংলাদেশি প্যারেন্টিং✓ বিনোদনভাষা বিকাশমধ্যবিত্তমননশীলতা ✓ মনোযোগ বৃদ্ধিমা ও শিশুমানসিক বিকাশমূল্যবোধযৌথ পরিবারশহুরে পরিবারশারীরিক বিকাশশিক্ষণ পদ্ধতিশিক্ষাশিক্ষামূলক খেলাশিশুশিশু যত্নশিশুর আচরণশিশুর আবেগসম্মানবোধসহানুভূতিসাধারণ সমস্যাসামাজিক দক্ষতাসামাজিক মূল্যবোধসৃজনশীলতাস্কুল প্রস্তুতিস্ক্রিন টাইমস্বাস্থ্যহোমওয়ার্ক
পড়তে বসলেই উঠে যায়: শিশুর মনোযোগ কম, নাকি অন্য কোনো সমস্যা?
জিজ্ঞাসা
পড়তে বসলেই উঠে যায়: শিশুর মনোযোগ কম, নাকি অন্য কোনো সমস্যা?

প্রশ্নঃ আমি একজন কর্মজীবী বাবা। আমার ছেলে ৭ বছর বয়সী, ওর ছোট একটা বোন আছে। ও পড়তে বসলে পাঁচ মিনিট পরপর উঠে যায়। কখনো পানি খাবে, কখনো পেন্সিল খুঁজবে, কখনো অন্য কিছু করবে। জোর করলে পড়ে, কিন্তু নিজের থেকে মনোযোগ দিতে পারে না। এটা কি বয়সের কারণে, নাকি অন্য কোনো সমস্যা?

সপ্তাহে একদিনের পারিবারিক ঘোরাঘুরি: সন্তানের জন্য অমূল্য উপহার
বিনোদন
সপ্তাহে একদিনের পারিবারিক ঘোরাঘুরি: সন্তানের জন্য অমূল্য উপহার

শাহ আলম সপ্তাহে ছয় দিন রাস্তার পাশে বসে জুতা মেরামতের কাজ করে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ, তারপর সংসারের হিসাব, বাজারের চিন্তা, বাড়িভাড়া, ওষুধ, সব মিলিয়ে জীবনটা যেন প্রতিদিন একই ছন্দে আটকে আছে। তার স্ত্রীও অন্যের বাসায় কাজ করেন। এখন তিনি চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা, তাই আগের মতো সবকিছু সামলাতে গিয়ে দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়েন। তিন বছরের ছেলে রাফি বেশিরভাগ সময় ছোট্ট ঘরের ভেতরেই খেলাধুলা করে।

দৈনন্দিন ছোট অভ্যাস কীভাবে শিশুকে দায়িত্বশীল করে তোলে?
মূল্যবোধ
দৈনন্দিন ছোট অভ্যাস কীভাবে শিশুকে দায়িত্বশীল করে তোলে?

আমি আগে ভাবতাম দায়িত্বশীলতা হয়তো বড় হওয়ার পর শেখে মানুষ। চাকরি, সংসার বা জীবনের চাপ সামলাতে সামলাতেই দায়িত্ববোধ আসে। কিন্তু বাবা হওয়ার পর বুঝলাম, দায়িত্বশীল হওয়ার বীজ আসলে অনেক ছোট বয়স থেকেই তৈরি হয়।

কর্মীদের সঙ্গে আপনার আচরণ থেকেই শিশু সম্মানবোধ শিখতে পারে
মূল্যবোধ
কর্মীদের সঙ্গে আপনার আচরণ থেকেই শিশু সম্মানবোধ শিখতে পারে

আমাদের বাসায় যেহেতু যৌথ পরিবার, আর আমি ব্যবসার কাজে ব্যস্ত থাকি, তাই গৃহকর্মী বা সহায়তাকারী কর্মীদের উপর অনেক কাজ নির্ভর করে। বিশেষ করে যমজ ছেলে হওয়ার পর বুঝেছি, শিশুকে বড় করতে শুধু মা-বাবা না, বাসার পরিবেশও অনেক বড় ভূমিকা রাখে।

সবচেয়ে দামী খেলনা কি বাবা-মায়ের মনোযোগের বিকল্প হতে পারে?
বিনোদন
সবচেয়ে দামী খেলনা কি বাবা-মায়ের মনোযোগের বিকল্প হতে পারে?

সন্তান হওয়ার পর একটা জিনিস আমি খুব কাছ থেকে বুঝেছি, বাজারে শিশুদের জন্য জিনিসের কোনো শেষ নেই। দামি মিউজিক্যাল খেলনা, স্মার্ট শেখার যন্ত্র, স্বয়ংক্রিয় দোলনা, বিদেশি অ্যাক্টিভিটি সেট দেখে অনেক সময় মনে হয়, “এসব না কিনলে বুঝি শিশুর বিকাশ পিছিয়ে যাবে।” আমাদের মতো উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারে এই চাপ আরও বেশি। আত্মীয়স্বজনও অনেক সময় বলেন, “বাচ্চাদের জন্য সেরা জিনিসটাই তো নিতে হবে।” আমিও শুরুতে ভাবতাম, বেশি দামি খেলনা মানেই হয়তো বেশি শেখা।

নবজাতকের সার্বিক বিকাশে বাবা কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারেন?
শিক্ষা
নবজাতকের সার্বিক বিকাশে বাবা কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারেন?

আমাদের দেশে এখনো অনেক পরিবারে খুব সাধারণ একটা ধারণা হলো নবজাতক শিশু মানেই “মায়ের দায়িত্ব”। বাবা মূলত বাইরে কাজ করবে, উপার্জন করবে, আর শিশুর আসল যত্ন নেবে মা ও পরিবারের অন্য নারীরা। যমজ ছেলে হওয়ার আগে আমিও অনেকটা এমনটাই ভাবতাম। মনে হতো, এত ছোট বাচ্চার সাথে “শেখানো” আবার কী!

শিশুর শিক্ষাকে কেন অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি?
মূল্যবোধ
শিশুর শিক্ষাকে কেন অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি?

ফাহমিদা বেগম ছোটবেলায় খুব বেশি পড়াশোনা করতে পারেননি। সংসারের অভাব, দ্রুত কাজের দায়িত্ব, সব মিলিয়ে অল্প বয়সেই স্কুল ছাড়তে হয়েছিল। এখন গার্মেন্টসে দীর্ঘ সময় কাজ করার পরে মাঝে মাঝে তিনি মেয়েদের পড়তে বসা দেখেন আর মনে মনে ভাবেন, “ছেলে-মেয়েদেরকে যেন উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারি।”

শিশু শিক্ষার জন্য কার্যকর রুটিন অনুসরণ করানো
শিক্ষা
শিশু শিক্ষার জন্য কার্যকর রুটিন অনুসরণ করানো

ফাহমিদা বেগমের বাসায় পড়াশোনার জন্য আলাদা কোনো শান্ত পরিবেশ নেই। এক রুমের ঘরে টিভির শব্দ, রান্নার আওয়াজ, ছোট ছেলের কান্না এসবকিছুর মাঝেই বড় দুই মেয়েকে পড়তে বসতে হয়। কখনো তারা রাতে পড়ে, কখনো সকালে, আবার কোনোদিন একদমই বসতে চায় না।

শিশুর স্ক্রিন টাইম: শুধু বিনোদন নয়, শেখার সুযোগও হতে পারে
বিনোদন
শিশুর স্ক্রিন টাইম: শুধু বিনোদন নয়, শেখার সুযোগও হতে পারে

আমাদের বাসায় একটা সময় ছিল, যখন স্ক্রিন টাইম নিয়ে আমি খুবই বিরক্ত হয়ে যেতাম। হাসপাতালে দীর্ঘ সময় কাজ শেষ করে বাসায় ফিরে দেখতাম, আমার মেয়ে ট্যাবলেট নিয়ে কার্টুন দেখছে। প্রথমে মনে হতো, পুরো বিষয়টাই একদম বন্ধ করে দিই। কিন্তু পরে বুঝলাম, আজকের সময়ে স্ক্রিন পুরোপুরি এড়িয়ে চলা প্রায় অসম্ভব। বরং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শিশু স্ক্রিনে কী দেখছে, কতক্ষণ দেখছে, আর কীভাবে ব্যবহার করছে। সত্যি বলতে, সব স্ক্রিন টাইম একরকম না।

“ইংলিশ মিডিয়াম বনাম বাংলা মিডিয়াম” শহুরে বাবা-মায়ের দ্বিধা
শিক্ষা
“ইংলিশ মিডিয়াম বনাম বাংলা মিডিয়াম” শহুরে বাবা-মায়ের দ্বিধা

আমাদের মেয়ের স্কুলে ভর্তি করার সময় আমি আর আমার স্বামী সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটা শুনেছি, সেটা হলো, “ইংলিশ মিডিয়ামে দিচ্ছেন না?” ঢাকার শহুরে প্যারেন্টিং কালচার -এ সত্যি বলতে একটা নীরব চাপ কাজ করে। বিশেষ করে উচ্চবিত্ত বা উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারে অনেক সময় এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে ইংলিশ মিডিয়াম মানেই ভালো শিক্ষা, ভালো ভবিষ্যৎ, ভালো আত্মবিশ্বাস। আবার অন্যদিকে উল্টো বিচারও আছে। অনেক বাংলা মাধ্যম পরিবার মনে করে ইংলিশ মিডিয়ামের বাচ্চারা বাংলা ভাষা আর সংস্কৃতি থেকে দূরে সরে যায়। এমনকি ছোট বাচ্চাদের মধ্যেও অকারণ একটা বিভাজন তৈরি হয়, “ও ইংলিশ মিডিয়াম”, “ও বাংলা মিডিয়াম”।

মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য শিশুর স্ক্রিনবিহীন ১০টি বিনোদনমূলক কার্যক্রম
বিনোদন
মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য শিশুর স্ক্রিনবিহীন ১০টি বিনোদনমূলক কার্যক্রম

এখনকার সময়ে ছোট বাচ্চাকে কিছুক্ষণ শান্ত রাখতে গেলেই সবার আগে মোবাইলের কথা মাথায় আসে। সত্যি বলতে, আমি নিজেও এর বাইরে ছিলাম না। আমার ছেলে যখন বেশি কান্না করত বা আমি রান্নার কাজে ব্যস্ত থাকতাম, তখন কার্টুন চালিয়ে দেওয়া অনেক সহজ সমাধান মনে হতো। কিন্তু ধীরে ধীরে খেয়াল করলাম, মোবাইল বেশি দেখার দিনগুলোতে ও বেশি রেগে যাচ্ছে, মনোযোগ কমে যাচ্ছে, আর ছোট ছোট জিনিসেও বিরক্ত হচ্ছে। তখন থেকেই ভাবতে শুরু করি, স্ক্রিন ছাড়া কি ওকে আনন্দ দেওয়া সম্ভব?

ব্যস্ত রুটিনের মাঝেও পরিবারের জন্য সময় রাখা কেন জরুরি?
বিনোদন
ব্যস্ত রুটিনের মাঝেও পরিবারের জন্য সময় রাখা কেন জরুরি?

ব্যস্ততা যেন আমাদের সবাইকে একদম জড়িয়ে ফেলছে। আমার স্বামী সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যবসার কাজে বাইরে থাকে। বাসায় ফিরে ও ক্লান্ত থাকে, এটা খুব স্বাভাবিক। আর আমি সারাদিন দুই বাচ্চা, রান্না, ঘরের কাজ সামলে দিনের শেষে এমন ক্লান্ত হয়ে যাই যে অনেক সময় নিজের সাথেই কথা বলতে ইচ্ছা করে না। এই ব্যস্ততার মধ্যে বুঝতেই পারিনি যে আমরা একই বাসায় থাকলেও, পরিবারের সাথে খুবই কম পরিমান সময় কাটানো হচ্ছে।

শরীরচর্চামূলক খেলাধুলা
বিনোদন
শরীরচর্চামূলক খেলাধুলা

শাহ আলমের ছেলে রাফির বয়স তিন বছর। ছোট্ট বাসা, চারপাশে ব্যস্ত রাস্তা, খেলাধুলার জন্য বড় মাঠও খুব একটা নেই। তাই বেশিরভাগ সময় রাফি বাসার ভেতরেই থাকে। কখনো মায়ের মোবাইলে ভিডিও দেখে, কখনো ছোট গাড়ি নিয়ে খেলে। কিন্তু রাফি খুব দ্রুত বিরক্ত হয়ে যায়, রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে চায় না, আবার ছোট্ট কিছুতেই রেগে যায় বিষয়গুলো এক সময় শাহ আলম খেয়াল করতে শুরু করেছিল। একদিন পাশের এলাকার এক স্বাস্থ্যকর্মী তাকে বললেন, “বাচ্চাদের শরীরচর্চামূলক খেলাধুলা খুব দরকার।” প্রথমে শাহ আলম ভাবল, “এই ছোট্ট বাচ্চা আবার কী শরীরচর্চা করবে?” আসলে ছোট শিশুদের জন্য শরীরচর্চা মানে জিম বা ব্যায়াম না। দৌড়ানো, লাফানো, বল গড়ানো, হাত-পা নেড়ে খেলা, এসবই তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শরীরচর্চামূলক খেলাধুলা।

হাতে তৈরি লার্নিং রিসোর্স
শিক্ষা
হাতে তৈরি লার্নিং রিসোর্স

শাহ আলমের ছেলে রাফির বয়স এখন তিন বছর। আশেপাশের অনেক বাচ্চার হাতে রঙিন বই বা খেলনা দেখে মাঝে মাঝে তার খারাপ লাগে। বাজারে গেলে সে দেখে অক্ষর শেখার বোর্ড, সংখ্যা শেখার খেলনা, কথা বলা পুতুল সহ কত কিছু। কিন্তু মাসের শেষে ভাড়া, বাজার আর ওষুধের খরচ মিটিয়ে এসব কেনা প্রায় অসম্ভব।

চারপাশের পরিবেশ কীভাবে শিশুর শেখার শ্রেণিকক্ষ হতে পারে?
শিক্ষা
চারপাশের পরিবেশ কীভাবে শিশুর শেখার শ্রেণিকক্ষ হতে পারে?

শাহ আলমের ছেলে রাফির বয়স তিন বছর। ছোট্ট একটা ঘরে তাদের সংসার। খেলনা খুব বেশি নেই, বইও হাতে গোনা কয়েকটা। তবুও শাহ আলম একটা জিনিস খেয়াল করে, রাফি সারাক্ষণ আশেপাশের সবকিছু নিয়ে প্রশ্ন করে। রাস্তা দিয়ে গরু গেলে জিজ্ঞেস করে, “এটা কী খায়?” বৃষ্টি নামলে বলে, “পানি কোথা থেকে আসে?” জুতা সেলাইয়ের দোকানে বসে সুতা, হাতুড়ি, আঠা সহ সবকিছু নিয়েই তার কৌতূহল।

সংগ্রামী পরিবেশে শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়ানো
মননশীলতা
সংগ্রামী পরিবেশে শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়ানো

শাহ আলমের ছেলে রাফির বয়স এখন তিন বছর। ছোট্ট একটা ঘরে তাদের সংসার। বাইরে রাস্তার শব্দ, পাশের ঘরের মানুষের ঝগড়া, কখনো টাকার চিন্তা, সব মিলিয়ে পরিবেশটা খুব শান্ত না। তবুও শাহ আলম একটা জিনিস খুব খেয়াল করে। রাফি যখন কিছু করতে গিয়ে ভয় পায়, বা “আমি পারবো না” বলে পিছিয়ে যায়, তখন তার নিজের বুকটাও কেমন হালকা কেঁপে ওঠে। কারণ সে জানে, অভাবের মধ্যে বড় হওয়া শিশুরা অনেক সময় খুব ছোট বয়স থেকেই নিজের সম্পর্কে হীনমন্যতায় ভুগতে শুরু করে।

নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস দিয়ে ক্রিয়েটিভ খেলনা বানানো
মননশীলতা
নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস দিয়ে ক্রিয়েটিভ খেলনা বানানো

শাহ আলম প্রায়ই একটা ব্যাপার খেয়াল করে। সারাদিন রাস্তার পাশে বসে জুতা সেলাই করার পর যখন বাসায় ফেরে, তার তিন বছরের ছেলে রাফি মোবাইল দেখতে চায়। বাসার এক কোণে বসে থাকা ছেলেটার জন্য নতুন খেলনা কেনার সামর্থ্য সবসময় থাকে না। বাজারে চাল, ডাল, ওষুধ, এসবের দাম সামলাতেই মাস শেষ হয়ে যায়।

শিশুর শিক্ষায় বাবার সক্রিয় অংশগ্রহণ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
শিক্ষা
শিশুর শিক্ষায় বাবার সক্রিয় অংশগ্রহণ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

আমি ছোটবেলায় একটা জিনিস খুব বেশি দেখেছি, পরিবারের পড়াশোনার দায়িত্ব সাধারণত মায়ের ওপরই বেশি থাকত। বাবা সংসারের খরচ চালাতেন, আর মা দেখতেন স্কুল, হোমওয়ার্ক, খাতা আর পরীক্ষার বিষয়গুলো। এখন নিজে বাবা হওয়ার পর বুঝছি, এই ধারণাটা এখনো অনেক পরিবারে আছে।

শিশুর শিক্ষায় অনলাইন রিসোর্সের সঠিক ব্যবহার
শিক্ষা
শিশুর শিক্ষায় অনলাইন রিসোর্সের সঠিক ব্যবহার

কয়েক বছর আগেও আমি ভাবতাম পড়াশোনা মানেই বই-খাতা আর স্কুল। কিন্তু এখন সময় অনেক বদলে গেছে। এখন ছোট শিশুরাও ইউটিউবে ছড়া দেখে, মোবাইল অ্যাপে অক্ষর শেখে, অনলাইন গেমের মাধ্যমে সংখ্যা চর্চা করে। একজন বাবা হিসেবে আমিও ধীরে ধীরে বিভিন্ন অনলাইন রিসোর্স ব্যবহার করতে শিখছি। তবে একটা জিনিস খুব দ্রুত বুঝেছি, ইন্টারনেটে শিক্ষামূলক কনটেন্ট অনেক আছে ঠিকই, কিন্তু সব কনটেন্ট সমানভাবে উপকারী নয়। আবার অনলাইন শেখা যদি ভারসাম্য ছাড়া হয়, তাহলে সেটার নেতিবাচক প্রভাবও থাকতে পারে।

শিশুর সাথে প্রতিদিন কমপক্ষে ১৫ মিনিট Quality Time কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
মননশীলতা
শিশুর সাথে প্রতিদিন কমপক্ষে ১৫ মিনিট Quality Time কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

আমি একজন চাকরিজীবী বাবা। সকাল থেকে অফিস ও সংসারের দায়িত্ব সামলিয়ে দিনের শেষে মনে হয় নিজের জন্যই সময় থাকে না। কিন্তু বাবা হওয়ার পর বুঝতে পারলাম শিশুদের সবসময় অনেক খেলনা, দামি জিনিস বা বড় আউটিং দরকার হয় না। অনেক সময় তারা শুধু চায় বাবা-মা একটু মন দিয়ে তাদের পাশে বসুক।

স্ক্রিন টাইমকে কীভাবে লার্নিং টাইমে রূপান্তর করবেন?
শিক্ষা
স্ক্রিন টাইমকে কীভাবে লার্নিং টাইমে রূপান্তর করবেন?

একটা সময় ছিল, যখন আমি ভাবতাম ছোট বাচ্চাদের হাতে মোবাইল বা ট্যাব দেওয়া মানেই খারাপ অভ্যাস। বিশেষ করে একজন মা হিসেবে সবসময় একটা ভয় কাজ করত, বেশি স্ক্রিন ব্যবহার কি আমার মেয়ের মনোযোগ, আচরণ বা শেখার ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে? কিন্তু ধীরে ধীরে বুঝলাম, আজকের পৃথিবীতে প্রযুক্তিকে পুরোপুরি এড়িয়ে চলা প্রায় অসম্ভব। শিশুরা এখন এমন এক পরিবেশে বড় হচ্ছে, যেখানে স্মার্ট ডিভাইস তাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। তখন আমি বিষয়টাকে অন্যভাবে ভাবা শুরু করি। “কীভাবে পুরোপুরি বন্ধ করব” এর বদলে “কীভাবে সঠিকভাবে ব্যবহার শেখাব”, এই চিন্তাটাই আমার কাছে বেশি বাস্তবসম্মত মনে হয়েছে।

অল্প খরচে শিশুর জন্য তৈরি করুন একটি সুন্দর লার্নিং কর্নার
শিক্ষা
অল্প খরচে শিশুর জন্য তৈরি করুন একটি সুন্দর লার্নিং কর্নার

আমার ছেলে যখন প্রায় দুই বছরের কাছাকাছি, তখন একটা জিনিস খুব স্পষ্টভাবে বুঝতে পারতাম, ও সবকিছু নিয়েই কৌতূহলী। রান্নাঘরের চামচ, কাপড়ের ক্লিপ, পুরোনো বাক্স, সবকিছুই ওর কাছে খেলনা মনে হতো। তখন থেকেই ভাবতাম, বাসায় যদি ছোট্ট একটা লার্নিং কর্নার (শেখার কোণ) তৈরি করা যেত! কিন্তু সত্যি বলতে, আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারে “লার্নিং সেটআপ” শুনলেই অনেক সময় মনে হয় অনেক টাকা লাগবে। বড় বইয়ের তাক, দামি খেলনা, দামি টেবিল, এগুলো না থাকলে বুঝি সম্ভব না।

ভাইবোনদের একসাথে খেলাধুলার উপকারিতা
বিনোদন
ভাইবোনদের একসাথে খেলাধুলার উপকারিতা

ফাহমিদা বেগমের বাসায় আলাদা খেলনার বাক্স নেই, বড় কোনো খেলার ঘরও নেই। কিন্তু বিকেল হলেই তার তিন সন্তান মিলে পুরো ঘরটাকে যেন খেলাধুলার দুনিয়া বানিয়ে ফেলে। কখনো বড় দুই বোন ছোট ভাইকে নিয়ে “স্কুল স্কুল” খেলে, কখনো বালিশ দিয়ে ঘর বানায়, কখনো আবার ঝগড়া করতে করতেই আবার খেলতে শুরু করে।

শিক্ষাগত ডিগ্রি ছাড়াও কিভাবে শিশুকে সঠিক পথে গাইড করবেন?
শিক্ষা
শিক্ষাগত ডিগ্রি ছাড়াও কিভাবে শিশুকে সঠিক পথে গাইড করবেন?

শাহ আলমের নিজের পড়াশোনা খুব বেশি দূর পর্যন্ত হয়নি। ছোটবেলায় সংসারের টানাপোড়েনে স্কুল ছাড়তে হয়েছিল। এখন রাস্তার পাশে বসে জুতা সেলাই করেই সংসার চলে। মাঝে মাঝে সে চুপচাপ ভাবে, “আমি নিজেই তো বেশি পড়ালেখা জানি না, তাহলে ছেলেকে ঠিকভাবে মানুষ করবো কিভাবে?” তার তিন বছরের ছেলে রাফি এখন কথা বলা, প্রশ্ন করা, নতুন জিনিস শেখার বয়সে। পাশের বাসার এক আন্টি একদিন বলেছিলেন, “বাচ্চাকে মানুষ করতে হলে তো অনেক শিক্ষিত হতে হয়।” কথাটা শাহ আলমের মনে গেঁথে গিয়েছিল।

বাবা-সন্তানের দূরত্ব কমাতে যেসব খেলা সাহায্য করে
বিনোদন
বাবা-সন্তানের দূরত্ব কমাতে যেসব খেলা সাহায্য করে

ব্যবসার কাজের কারণে আমার দিনের বড় একটা সময় বাইরে কাটে। তাই যমজ ছেলেরা জন্মানোর পর প্রথম কয়েক মাস আমার ভেতরে একটা অদ্ভূত ভয় কাজ করত, “ওরা কি আমাকে যথেষ্ট চিনবে?”, “মায়ের সাথে যেমন কম্ফোর্ট ফিল করে, আমার সাথেও কি করবে?” শুরুতে আমি ভাবতাম, শিশুর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলা মানে অনেক বড় কিছু। পরে বুঝলাম, ছোট ছোট মুহূর্তই আসলে সবচেয়ে দৃঢ় সম্পর্ক তৈরি করে। আর শিশুর সঙ্গে সেই সম্পর্ক গড়ে তোলার সবচেয়ে স্বাভাবিক উপায়গুলোর একটি হলো “খেলা”।

ভাই-বোনের সম্পর্ক মজবুত করতে ঘরোয়া খেলাধুলার গুরুত্ব
বিনোদন
ভাই-বোনের সম্পর্ক মজবুত করতে ঘরোয়া খেলাধুলার গুরুত্ব

আমি আর আমার স্বামী এখন একটা বিষয় নিয়ে প্রায়ই ভাবি, কীভাবে ছেলেমেয়েদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই সুন্দর সম্পর্ক তৈরি করা যায়। যদিও এখনো ওদের সেরকমভাবে খেলার বয়স হয়নি যেহেতু মেয়েটার বয়স মাত্র ৩ মাস। আমি আশেপাশে অনেক পরিবারেই দেখেছি, ভাইবোন একই ঘরে বড় হলেও তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়ে যায়। আবার কিছু ভাইবোন আছে, যারা বড় হয়েও একে অপরের সবচেয়ে বড় ভরসা হয়।

প্রি-স্কুল শিক্ষা শিশুর জন্য কতটা প্রয়োজন?
শিক্ষা
প্রি-স্কুল শিক্ষা শিশুর জন্য কতটা প্রয়োজন?

আমার মেয়ের যখন তিন বছর বয়স, তখন থেকেই আশেপাশে একটা প্রশ্ন খুব বেশি শুনতাম, “স্কুলে দিচ্ছেন না এখনো?” শহরের অনেক পরিবারেই এখন প্রি-স্কুল শিক্ষা যেন এক ধরনের প্রতিযোগিতা হয়ে গেছে। কে কত তাড়াতাড়ি বাচ্চাকে স্কুলে দিলো, কে আগে লিখতে শেখালো, কে আগে ইংরেজি শেখালো, এসব নিয়ে মা-বাবাদের মধ্যেই একধরনের অদৃশ্য চাপ কাজ করে। একসময় আমিও দ্বিধায় পড়ে যেতাম। সত্যিই কি এত ছোট বয়সে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু করা জরুরী?

যৌথ পরিবারে শিশুকে সম্মানজনক আচরণ শেখাবেন কীভাবে?
মূল্যবোধ
যৌথ পরিবারে শিশুকে সম্মানজনক আচরণ শেখাবেন কীভাবে?

আমার ছেলে এখন তিন বছরের। এই বয়সে ও “ধন্যবাদ”, “দাও”, “আমারটা”, “না চাই” এসব খুব স্পষ্টভাবে বলতে শুরু করেছে। তখন থেকেই আমি ভাবতে শুরু করি, সম্মানজনক আচরণ আসলে কীভাবে শেখানো যায়?

বাচ্চাদের মনের বিকাশ: খেলাধুলা ও বইপড়া
শিক্ষা
বাচ্চাদের মনের বিকাশ: খেলাধুলা ও বইপড়া

আমরা অনেক সময় আমাদের শিশুরা যখন খেলতে বসে, তখন তাকে থামিয়ে দিয়ে পড়তে বসাই বা যখন বই নিয়ে বসে, তখন তাকে খেলতে পাঠাই। আমরা বইপড়া ও খেলাধুলাকে অনেক সময় আলাদা করে দেখি, কিন্তু সত্যিটা হলো খেলাধুলা এবং বইপড়া দুইটিই শিশুর জন্য সমান গুরুত্বের এবং এগুলো একসাথে শিশুর মনের সঠিক বিকাশে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকা রাখে।

শিশুকে নিজের দেশের সংস্কৃতি জানাতে উৎসাহিত করা
মূল্যবোধ
শিশুকে নিজের দেশের সংস্কৃতি জানাতে উৎসাহিত করা

সচেতন অভিভাবক হিসেবে আমাদের একটি গুরু দায়িত্ব হচ্ছে আমাদের শিশুকে নিজের দেশের সংস্কৃতি জানাতে উৎসাহিত করা, কেননা এটি একটি শিশুর পরিচয়, মূল্যবোধ এবং মানসিক গঠনের সাথে গভীরভাবে জড়িত। একটি শিশু যখন ছোটবেলা থেকেই নিজের দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে শুরু করে, তখন সে নিজের শিকড় সম্পর্কে সচেতন হয় এবং নিজের পরিচয় নিয়ে গর্ববোধ করতে শেখে। নিজের দেশের সংস্কৃতি জানার মাধ্যমে একটি শিশু বুঝতে পারে তার ভাষা, ঐতিহ্য, ইতিহাস এবং সমাজের গুরুত্ব কী। এই কারণেই শিশুকে নিজের দেশের সংস্কৃতি শেখানো শুধু একটি অতিরিক্ত বিষয় নয়, বরং তার সঠিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত জরুরি। নিজের দেশের সংস্কৃতি একটি শিশুর আত্মপরিচয় গঠনে সহায়তা করে এবং তাকে আত্মবিশ্বাসীও করে তোলে।

সৃজনশীলতা ও দক্ষতা উন্নয়ন (ছবি আঁকা)
মননশীলতা
সৃজনশীলতা ও দক্ষতা উন্নয়ন (ছবি আঁকা)

ছবি আঁকা হচ্ছে শিশুর মনের ভাষা প্রকাশের একটি বড় মাধ্যম। একটি শিশু যখন তার চারপাশের পরিবেশ দেখে তখন সে ঐ পরিবেশ থেকে যা উপলব্ধি করে তা সে ছবি আঁকার মাধ্যমে প্রকাশ করে। আমরা অভিভাবকরা অনেক সময় ভেবে থাকি ছবি আঁকা মানে কেবল কিছু আঁকিবুঁকি আর রং করা কিন্তু ছবি আঁকা হচ্ছে মূলত শিশুদের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

শিশুর সৃজনশীলতা বিকাশের মাধ্যম
মননশীলতা
শিশুর সৃজনশীলতা বিকাশের মাধ্যম

শিশুর সৃজনশীলতা তার চিন্তাভাবনা, কল্পনাশক্তি এবং যেকোনো ধরণের সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একটি শিশু যখন নতুন কিছু ভাবতে পারে, নিজের মতো করে কিছু তৈরি করতে পারে বা কোনো সমস্যার ভিন্ন সমাধান খুঁজে বের করতে পারে, সেটিই তার সৃজনশীলতার প্রকাশ। সৃজনশীলতা শিশুদের আত্মবিশ্বাস, মনোযোগ এবং ধৈর্য বাড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক দক্ষতাও বাড়ায়। মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, সৃজনশীল কাজ শিশুদের মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ সক্রিয় করে এবং শেখার প্রক্রিয়াকে আরও আনন্দময় করে তোলে, ফলে তারা বিষয়গুলো খুব সহজে বোঝতে সক্ষম হয়।

স্ক্রিন টাইম পরিমিত রাখার উপায়
মননশীলতা
স্ক্রিন টাইম পরিমিত রাখার উপায়

ডিজিটাল এই যুগে শিশুদের জন্য স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, কম্পিউটার বা টিভি ব্যবহার এখন একেবারেই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। কিন্তু বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শিশুদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যেমন চোখের সমস্যা, ঘুমের ঘাটতি, মনোযোগের অভাব, ধৈর্য কমে যাওয়া এবং সামাজিক দক্ষতা কমে যাওয়া ইত্যাদি। যদিও বর্তমান যুগে শূন্য স্ক্রিন টাইম প্রায় অসম্ভব কিন্তু স্ক্রিন টাইম পরিমিত রাখা সম্ভব। তাছাড়া যদি স্ক্রিন টাইম একেবারে শূন্য রাখা হয় তবে বাচ্চারা বর্তমান বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে নতুন নতুন টেকনোলজির সাথে পরিচিত হতে পারবে না বা পিছিয়ে পড়বে। কেননা শিশুরা বিভিন্নধরণের শিক্ষামূলক ইন্টারেক্টিভ কনটেন্টের মাধ্যমে নতুন নতুন বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে খুব সহজেই জানতে পারে। সেটি হতে পারে বিজ্ঞান সম্পর্কে, মহাবিশ্ব সম্পর্কে আবার নিজেদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ইত্যাদি নানা বিষয় সম্পর্কে।

স্ক্রিন টাইম
মননশীলতা
স্ক্রিন টাইম

বর্তমান সময়ে আমাদের মা-বাবাদের সময় উপযোগী একটি অভিযোগ হচ্ছে বাচ্চা মোবাইলে আসক্ত। কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি সময়ের সাথে সাথে বাচ্চা কেনো মোবাইলে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে? এই আসক্তি কি হঠাৎ করে শুরু নাকি ধীরেধীরে অনেক সময় নিয়ে তৈরি হয়েছে?